News Flash

  • Home
  • মুখ্য খবর
  • ভারী বর্ষণে রাজ্যে কৃষি ও বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে
Image

ভারী বর্ষণে রাজ্যে কৃষি ও বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে

আগরতলা, ২৩ আগস্ট : বিগত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণের ফলে রাজ্যে কৃষি, উদ্যান এবং বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য সম্পদ ও জীবনহানির ঘটনাও ঘটেছে। আজ মহাকরণের প্রেস কনফারেন্স হলে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে কৃষিমন্ত্রী রতনলাল নাথ একথা জানান। রাজ্যে ভারী বর্ষণের ফলে কৃষি, উদ্যান ও বিদ্যুৎ-এর যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সে বিষয়ে জানাতে গিয়ে কৃষিমন্ত্রী জানান, বন্যা পরিস্থিতির ফলে রাজ্যের ৬৮ হাজার ৮২৬ হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত ৫৩১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা মূল্যের কৃষি ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এরফলে ১ লক্ষ ৪১ হাজার ৪০৬ জন কৃষক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। এছাড়াও ১ লক্ষ ৫ হাজার ১০১ হেক্টর আমন ধানের জমি এখনও জলের তলায় রয়েছে। উদ্যান চাষের ক্ষেত্রে ৫ হাজার ৬১৪ হেক্টর জমি আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে প্রভাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ৪ হাজার ৯০ হেক্টর কৃষি জমি। এর ফলে ২৭ হাজারের উপর কৃষকের ১৬৭ কোটি ১৪ লক্ষ টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বিদ্যুৎ মন্ত্রী জানান, ভারী বর্ষণের ফলে রাজ্যের বিদ্যুৎ ব্যবস্থারও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রাজ্যের মোট বিদ্যুৎ গ্রাহকের মধ্যে ৩ লক্ষ ১৯ হাজার ৭৭৩ গ্রাহক নানাভাবে প্রভাবিত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে বিদ্যুতের ১ হাজার ৬০৩টি খুটি ভেঙে পড়েছে, ৫০১টি ট্রান্সফরমার, ৬৪২ কিমি কন্ডাকটরস এবং ৩৩ কেভি ও ৬৬ কেভির ২টি সাব-স্টেশন সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এছাড়াও ৯টি স্থানে ৩৩ কেভি বৈদ্যুতিক লাইন ব্রেক ডাউন হয়ে গেছে। এরমধ্যে ৪টি স্থানে বৈদ্যুতিক লাইন সারাইয়ের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত বিদ্যুৎ দপ্তরের ৯ কোটি ২ লক্ষ টাকার সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। রাজ্যের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে ৮-১০ জনের ১১১টি গ্রুপ কাজ করে যাচ্ছে। গোমতী এবং দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার অনেক স্থান জলমগ্ন থাকায় বিদ্যুৎ কর্মীরা বিদ্যুৎ সারাইয়ের কাজ করতে পারছেননা।

এছাড়াও আগরতলা শহরের (সার্কেল-১) বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাকে স্বাভাবিক করে তোলার লক্ষ্যে ২৫টি দল দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরও জানান, বিদ্যুৎ দপ্তর রাজ্যের হাসপাতালগুলোতে, রেলওয়ে স্টেশন, আদালত সহ বিভিন্ন অফিসগুলোতে বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাকে স্বাভাবিক রাখার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কৃষি মন্ত্রী জানান, গত কয়েকদিন ধরে রাজ্যে যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে তা আগে কখনো হয়নি। ১৯৫২ সালে আগরতলা শহরের ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। এছাড়াও ১৯৮৩ সালে এবং ১৯৯৩ সালে রাজ্যে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়েছিল। কিন্তু এবার যে বৃষ্টিপাত হয়েছে তা অতীতের থেকেও ভয়ঙ্কর ছিল। সাধারণত আগস্ট মাসে রাজ্যে যে পরিমাণ বৃষ্টি হওয়ার কথা ছিল তার থেকে অনেক বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ার ফা বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে কৃষিমন্ত্রী সাংবাদিক সম্মেলনে জানান।

Releated Posts

তিরঙ্গা শুধু কাপড়ের টুকরো নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কোটি ভারতবাসীর আবেগ, আত্মত্যাগ ও স্বপ্ন: মন্ত্রী রতন লাল নাথ

আগরতলা, ১৩ আগস্ট: তিরঙ্গা শুধু একটি কাপড়ের টুকরো নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কোটি কোটি ভারতবাসীর আবেগ, আত্মত্যাগ,…

ByByReshmi Debnath Aug 13, 2026

নেশার কারবার রুখতে এবার কড়া পদক্ষেপ, চার এলাকায় বাড়ছে পুলিশের নজরদারি

আগরতলা, ১৩ আগস্ট: নেশামুক্ত ত্রিপুরা গড়ার লক্ষ্যে নেশা কারবারের মূল হোতাদের বিরুদ্ধে এবার আরও কঠোর পদক্ষেপের বার্তা দিল…

ByByTaniya Chakraborty Aug 13, 2026

কুমারঘাটে ফের দুঃসাহসিক চুরি, সোনা-রূপা ও দোকানের সামগ্রী লুঠ

আগরতলা, ১৩ আগস্ট: কুমারঘাট শহরের প্রাণকেন্দ্রে জাতীয় সড়ক সংলগ্ন এলাকায় ফের দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গভীর রাতে…

ByByTaniya Chakraborty Aug 13, 2026

শ্রীরামপুর-গোলকপুর সড়ক পরিদর্শনে মন্ত্রী টিংকু রায়, শীঘ্রই শুরু হবে নির্মাণকাজ

কৈলাসহর, ১৩ আগস্ট: চণ্ডীপুর বিধানসভা এলাকার দীর্ঘদিনের বেহাল শ্রীরামপুর-গোলকপুর সড়ক বৃহস্পতিবার সকালে পরিদর্শন করেন সমাজকল্যাণ, সমাজশিক্ষা ও শ্রমমন্ত্রী…

ByByReshmi Debnath Aug 13, 2026
Scroll to Top