ঝড়ে বিপর্যস্ত বিদ্যুৎ পরিষেবা, ক্ষয়ক্ষতি প্রায় দেড় কোটি

আগরতলা, ৩ মে : মাত্র একদিনের ঝড়-বৃষ্টিতেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উত্তর জেলা, ঊনকোটি, খোয়াই, সিপাহীজলা, গোমতী, দক্ষিণ ত্রিপুরা এবং ধলাই জেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে সিপাহীজলা জেলার ক্ষয়ক্ষতি সবচেয়ে বেশি।

প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী বৃহস্পতিবারের ঝড়-বাদলে রাজ্যের মোট ১৬৬ কিলোমিটারেরও বেশি পরিবাহি তার ছিড়ে গিয়েছে। ২৩৫ টি খুঁটি ভেঙ্গে পড়েছে। ট্রান্সফর্মার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩০ টি। প্রাথমিক অনুমান , এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১ কোটি ৪২ লক্ষ ১৮ হাজার টাকা।একদিনের ঝড়েই যেভাবে ত্রিপুরা রাজ্য বিদ্যুৎ নিগমের বিদ্যুৎ পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, এর ফলে উল্লেখিত জেলা সমূহে বিদ্যুৎ পরিষেবা বিপর্যস্ত হয়েছে । যদিও বৃহস্পতিবার থেকে শুরু করে শুক্রবার দিনভর অতিরিক্ত শ্রমিক সহযোগে ত্রিপুরা রাজ্য বিদ্যুৎ নিগমের প্রকৌশলীরা বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক করার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।

এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকার সাধারণ জনগণকে নিগমের প্রকৌশলী দলকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য নিগমের তরফে অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিপর্যস্ত এই বিদ্যুৎ পরিষেবাকে কিভাবে দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায় , সেই লক্ষ্যে শুক্রবার রাজ্যের বিদ্যুৎ মন্ত্রী রতন লাল নাথ মহোদয় রাজ্য বিদ্যুৎ নিগমের ব্যবস্থাপক অধিকর্তা দেবাশীষ সরকার, মহাব্যবস্থাপক স্বপন দেববর্মা সহ নিগমের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন । মন্ত্রী জানিয়েছেন , প্রয়োজনে আরো বেশি শ্রমিক, আরো বেশি গাড়ি ব্যবহার করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পরিসেবাকে স্বাভাবিক করে তুলতে হবে। ত্রিপুরা রাজ্য বিদ্যুৎ নিগমের ব্যবস্থাপক অধিকর্তা শ্রী দেবাশিস সরকার জানিয়েছেন, বেশকিছু এলাকায় ইতিমধ্যেই বিদ্যুৎ পরিষেবা চালু করা সম্ভব হয়েছে । কিন্তু আরো বেশ কিছু এলাকায় এখনো খুঁটি বসানো যায়নি । তার টানা যায়নি। কারণ ভেঙ্গে পড়া গাছপালা সরিয়ে বিদ্যুতের তার টেনে পরিষেবা পুনস্থাপন করা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। বহু এলাকায় এখনো ট্রান্সফর্মার পুনস্থাপন করা যায়নি। তবে আর ঝড় বৃষ্টি না এলে,খুব শীঘ্রই পরিসেবা স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে।

তবে বিদ্যুৎ নিগমের অগ্রাধিকারের ক্ষেত্র হিসেবে হাসপাতাল, পানীয় জলের উৎস সহ অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা সমূহ রয়েছে বলেও তিনি জানান। ত্রিপুরা রাজ্য বিদ্যুৎ নিগমের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ধর্মনগরে মোট দেড় কিলোমিটার তার ছিড়ে গিয়েছে। খুঁটি ভেঙেছে পাঁচটি । পানিসাগরে দুই কিলোমিটার তার ছিড়েছে । সঙ্গে আটটি খুঁটি ভেঙে গিয়েছে। কুমারঘাটে এক কিলোমিটারের বেশি তার ছিঁড়ে যাওয়া সহ পাঁচটি খুঁটি ভেঙেছে। কৈলাশহরে খুঁটি ভেঙ্গেছে এগারটি। তার ছিঁড়েছে এক কিলোমিটার। তেলিয়ামুড়ায় কোন খুঁটি না ভাঙলেও তার ছিঁড়ে গিয়েছে প্রায় দুই কিলোমিটার। খুঁটি ভেঙেছে একটি । কিন্তু খোয়াইয়ে আড়াই কিলোমিটারেরও বেশি তার ছিড়ে গিয়েছে। বিশালগড়ে তার ছিঁড়েছে ২৮ কিলোমিটার। খুটি ভেঙ্গেছে ত্রিশটি। সাতটি ট্রান্সফর্মার নষ্ট হয়ে গিয়েছে। বিশালগড়ের লালসিংমুরা, সুতারমুড়া , কামথানা , বংশীবাড়ি, কড়ইমুড়া , এনসি নগর, দুর্গাপুর, অফিসটিলা, লক্ষীবিল , ধ্বজ নগর , চন্দ্রনগর, কলকলিয়া, গোলাঘাটি, দয়ারামপাড়া, পেকুয়ারজলা, ভাটি লার্মা, মোহনপুর, রংমালা , তারাপদ, ওয়ারেনবাড়ি ,পদ্মনগর এবং আড়ালিয়ায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জম্পুইজলা বিদ্যুৎ সাব ডিভিশনের অধীন তিন কিলোমিটার তার ছেড়ে গিয়েছে। খুঁটি ভেঙেছে একটি। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সোনামুরা মহকুমা। এখানে ১১৬ কিলোমিটার তার ছিঁড়েছে। খুঁটি ভেঙ্গেছে ১১২ টি। ১৪ টি ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়েছে। সোনামুরা মহকুমার বক্সনগর, পশ্চিমপাড়া ,গিল্লামুরা ,তুইবান্দাল, গরুরবান, বনদুয়ার, পিত্রেয়া, পুটিয়া , বাগবের, কমলনগর, ঘটিঘর , দুধপুকুর, মধ্য বক্সনগর, ময়নামা, ধনিরামপুর, কলমছড়া,পূর্ব রতনধোলা এলাকায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিদ্যুৎ পরিষেবা । উদয়পুরে আড়াই কিলোমিটার বিদ্যুতের তার ছিড়ে গেলেও ৫১ টি খুঁটি ভেঙেছে। সাতটি ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়েছে। অমরপুরে সাড়ে তিন কিলোমিটার তার ছিঁড়েছে। ১১ টি খুটি ভেঙ্গেছে। দুটি ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়েছে। এ ছাড়া আমবাসায় তার ছিঁড়েছে এক কিলোমিটার। কমলপুরে আড়াই কিলোমিটার এবং মনুতে প্রায় আধা কিলোমিটার তার ছিড়ে গিয়েছে। এছাড়াও রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় পরিবাহী তারের উপর গাছ পড়েছে। খুঁটি হেলে গিয়েছে । দ্রুত পরিষেবা স্বাভাবিক করার কাজে ত্রিপুরা রাজ্য বিদ্যুৎ নিগম সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে। এক্ষেত্রে আপামর জনগণকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য বিদ্যুৎ নিয়মের তরফে অনুরোধ জানানো হয়েছে।