নয়াদিল্লি, ৮ ডিসেম্বর (হি.স.): অর্থের বিনিময়ে প্রশ্ন অভিযোগে বিদ্ধ তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র। ‘প্রশ্নঘুষ’কাণ্ডে সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিষয়ে শুক্রবার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে লোকসভায়। এই সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছে এথিক্স কমিটি। সেই রিপোর্ট নিয়ে লোকসভা কোন পথে এগোবে, তা স্পিকার ওম বিড়লা ঠিক করবেন। মহুয়ার সাংসদ পদ থাকবে, না তা খারিজ করে দেওয়া হবে, তা-ও চূড়ান্ত হয়ে যেতে পারে শুক্রবারই। মহুয়াকাণ্ডে লোকসভায় রিপোর্ট পেশ করে এথিক্স কমিটি। বেলা ১২টার পর রিপোর্ট জমা পড়ে। এথিক্স কমিটির রিপোর্ট লোকসভায় জমা পড়ার পর তুমুল শোরগোল শুরু হয়। হইচইয়ের মাঝে সভা মুলতুবি করে দেওয়া হয়। দুপুর ২টো পর্যন্ত অধিবেশন মুলতুবি থাকে।
প্রসঙ্গত, মহুয়া মৈত্রের সাংসদ পদ খারিজ করার সুপারিশ করেছে এথিক্স কমিটি। ৪৯৫ পৃষ্ঠার রিপোর্টে সে কথাই বলা হয়েছে। মহুয়া যা করেছেন, তার জন্য তাঁর গুরুতর শাস্তি হওয়া দরকার বলেও মনে করেন কমিটির সদস্যেরা। এথিক্স কমিটির রিপোর্ট জমা পড়ার পর লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি লিখেছেন। তিনি ওই রিপোর্ট পড়ে দেখার জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময় চেয়েছেন। স্পিকারকে চিঠি দেওয়ার পর সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘৪৯৫ পৃষ্ঠার একটা চিঠি। তা পড়ে দেখার জন্য ন্যূনতম সময় দরকার। আমরা ৪৮ ঘণ্টা সময় চেয়েছি। পড়াশোনা করে এসে এ বিষয়ে আলোচনা করব। আলোচনাটাই তো মূল প্রাধান্য পাওয়ার কথা। এখনই রিপোর্ট দিয়ে এখনই পদক্ষেপ করতে হবে— এই মানসিকতার আমরা তীব্র বিরোধিতা করছি।’’
এদিকে, মহুয়ার বিরুদ্ধে এথিক্স কমিটির রিপোর্ট প্রসঙ্গে লোকসভার স্পিকারকে চিঠি লেখেন লোকসভার কংগ্রেস দলনেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তিনিও সময় চেয়েছেন। চিঠিতে অধীর জানিয়েছেন, এথিক্স কমিটির রিপোর্ট পড়ার জন্য লোকসভার সদস্যদের অন্তত তিন থেকে চার দিন সময় দেওয়া দরকার। তাই আলোচনার জন্য অন্য কোনও তারিখ দেওয়ার জন্য স্পিকারকে অনুরোধ করেছেন তিনি। জানিয়েছেন, শুক্রবারের অন্তত তিন দিন পর কোনও তারিখ জানান স্পিকার। দুপুর দু’টোর পর অধিবেশন শুরু হলে অধীর লোকসভায় স্পিকারের উদ্দেশে বলেন, ‘‘এত বড় চিঠি এত কম সময়ে পড়া সম্ভব নয়। ভাল করে পড়ে এটা নিয়ে চর্চা করা উচিত। আদালতেও কারও সাজা হলে বিচারক আসামির বক্তব্য শোনেন। কারও বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ থাকলে, তাঁকে বলার সুযোগ দেওয়া উচিত। এই সংক্রান্ত বিবেচনা আমি আপনার উপরেই ছাড়ছি।’’
কংগ্রেস সাংসদ মনীশ তিওয়ারি বলেন, ‘‘১২টায় রিপোর্ট পেশ করে ২টোয় তা নিয়ে আলোচনা স্বাভাবিক নয়। তিন-চার দিন রিপোর্ট পড়ার জন্য সময় দিলে পৃথিবী উল্টে যাবে না। বিচারব্যবস্থার সাধারণ নিয়ম এখানে মানা হচ্ছে না। যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাঁকে কথাই বলতে দেওয়া হচ্ছে না। তা ছাড়া, এথিক্স কমিটি শুধু সুপারিশ করতে পারে। কী সাজা হবে, তা তারা ঠিক করে দিতে পারে না।’’ বিজেপি সাংসদ হীনা গাবিত জানান, তিনি দু’ঘণ্টাতেই এথিক্স কমিটির রিপোর্ট পড়ে ফেলেছেন। এ বিষয়ে লোকসভার অতীতের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি জানান, আগেও লোকসভা থেকে ঘুষ নেওয়ার অপরাধে সদস্যকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তৃণমূলের তরফে তিনি কথা বলবেন না। কথা বলবেন মহুয়া নিজে। এ ভাবে এথিক্স কমিটির রিপোর্ট নিয়ে মহুয়াকে বলার সুযোগ করে দিতে চাইছে তৃণমূল। বিজেপি তার বিরোধিতা করেছে। মহুয়া মৈত্রকে বলার সুযোগ দেননি স্পিকার ওম বিড়লা।
তিনি জানান, মহুয়া আগে নিজের বক্তব্য জানানোর সুযোগ পেয়েছিলেন। তাই আবার তাঁকে সুযোগ দেওয়া হবে না। পুরনো উদাহরণ টেনে এই যুক্তি দিয়েছেন স্পিকার। মহুয়া বলার জন্য একাধিক বার উঠে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু তাঁকে বসিয়ে দেওয়া হয়। মহুয়াকে বলতে না দেওয়ার তৃণমূলের তরফে বলতে শুরু করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, আগে কী হয়ে গিয়েছে, তা এখন যুক্তি হতে পারে না। মহুয়াকে বলতে না দিয়ে সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন তিনি। কল্যাণ জানান, দর্শন হিরানন্দানির বয়ানই নেওয়া হয়নি।

