News Flash

  • Home
  • দেশ
  • সাপের কামড়ে মৃত্যু হল গোসাবার গৃহবধূর
Image

সাপের কামড়ে মৃত্যু হল গোসাবার গৃহবধূর

ক্যানিং, ৫ অক্টোবর (হি.স.) : ফের অন্ধ বিশ্বাসের জেরে মৃত্যু হল এক গৃহবধূর। মৃতার নাম কল্পনা বিশ্বাস(৫০)। বুধবার সন্ধ্যায় ক্যানিং হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর। সাপে কামড়ানোর পর ওঝা, গুণিনের কাছে নিয়ে দীর্ঘক্ষণ ঝাড়ফুঁক, তুকতাক করার পর ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে এলে মৃত্যু হয় কল্পনার। মৃতার বাড়ি গোসাবার কচুখালি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩ নম্বর বিশ্বাস পাড়ায়। ক্যানিং থানার পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, বুধবার ভোর ৪টে নাগাদ বিছানায় ঘুমের মধ্যেই সাপে কামড়ায় কল্পনাকে। যন্ত্রণায় চিৎকার করে উঠলে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার তোরজোড় শুরু করেন। কিন্তু কল্পনা জোর করে তাঁকে স্থানীয় এক ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য। মায়ের কথা ফেলতে পারেন নি ছেলে বুদ্ধদেব বিশ্বাস। একপ্রকার বাধ্য হয়েই ভোর পাঁচটা নাগাদ সেই ওঝার কাছে নিয়ে যান কল্পনাকে। তখন থেকেই শুরু হয় ওঝার কেরামতি। ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে চলে ঝাড়ফুঁক, তুকতাক। কিন্তু দুপুরের পর থেকে ক্রমাগত শরীর খারাপ হতে শুরু করে কল্পনার। মায়ের অবস্থার অবনতি দেখে স্থানীয় এক গ্রামীণ চিকিৎসককে ডেকে আনে বুদ্ধদেব। প্রাথমিক চিকিৎসার ওই গ্রামীণ চিকিৎসক জানান রোগীর অবস্থা যথেষ্ট সংকটজনক, দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। তখনই পরিবারের সদস্যরা কল্পনাকে নিয়ে ক্যানিং হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সাপে কামড়ানোর প্রায় ১৪ ঘণ্টা পরে তাঁকে নিয়ে হাজির হয় ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে। কিন্তু ততক্ষনে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বুদ্ধদেব বলেন, “ আমরা সকলেই মাকে হাসপাতালে আনতে চেয়েছিলাম, কিন্তু মা-ই জোর করলেন ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু যখন বুঝতে পেরেছি মায়ের অবস্থার অবনতি হচ্ছে তখনই চিকিৎসার জন্য ডাক্তার ডাকি। ক্যানিং হাসপাতালেও নিয়ে আসি। কিন্তু ওঝার কাছে সময় নষ্ট ও নদীপথে এতটা দুরের হাসপাতালে নিয়ে আসতে দেরি হয়ে যাওয়ায় মায়ের মৃত্যু হল।” ঘটনায় পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

বৃহস্পতিবার সাপে কাটা রোগীর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সমরেন্দ্র নাথ রায় বলেন, “ ওঝার কাছে নিয়ে সময় নষ্ট করার কারনেই মৃত্যু হল। কালাচ সাপের কামড় খেয়েছিলেন ওই গৃহবধূ। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে এলে হয়তো প্রাণে বাঁচানো যেত।” সাপের কামড়ে আর মৃত্যু নয় লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা ক্যানিংয়ের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্য দেবাশিস দত্ত বলেন, “ আমরা লাগাতার সচেতনতার প্রচার করছি। সাপের কামড়ের চিকিৎসা শুধুমাত্র সরকারি হাসপাতালেই হয়। ওঝা গুণিনের কাছে গেলে এই ঘটনার আবারও পুনরাবৃত্তি হবে। এই রোগীকে আরও আগে হাসপাতালে নিয়ে এলে হয়তো প্রাণে বেঁচে জেতেন।”

Releated Posts

এক সপ্তাহ পর ভারতে গুগল প্লে স্টোরে ফিরল টেলিগ্রাম, বার্তা সম্পাদনা ফিচারে নিষেধাজ্ঞা বহাল

নয়াদিল্লি, ২৩ জুন (আইএএনএস): প্রায় এক সপ্তাহের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার পর মঙ্গলবার ভারতে গুগল প্লে স্টোরে ফের উপলব্ধ হল…

ByByNews Desk Jun 23, 2026

ব্রিকস বৈঠকের ফাঁকে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে ভারত-ইরান আলোচনা

নয়াদিল্লি, ২২ জুন : ব্রিকসের ১৬তম জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) বৈঠকের ফাঁকে সোমবার ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত…

ByByNews Desk Jun 22, 2026

বেকারত্ব মোকাবিলায় ত্রিমুখী কর্মসংস্থান কৌশলের প্রতিফলন বাজেটে: মুখ্যমন্ত্রী অধিকারী

কলকাতা, ২২ জুন : ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য পশ্চিমবঙ্গের বাজেট প্রস্তাবে বেকারত্ব সমস্যার সমাধানে রাজ্য সরকারের ঘোষিত ত্রিমুখী কর্মসংস্থান…

ByByNews Desk Jun 22, 2026

ড্রোন হুমকিতে জম্মু-কাশ্মীর ও উত্তর-পূর্বে গোয়েন্দা ব্যবস্থার বড়সড় পুনর্গঠনের পরিকল্পনা

নয়াদিল্লি, ২২ জুন (আইএএনএস): জম্মু-কাশ্মীর এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্য একীভূত গোয়েন্দা কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলি।…

ByByNews Desk Jun 22, 2026
Scroll to Top