কলকাতা, ৫ অক্টোবর (হি. স.) : শিক্ষকদের মিছিল সংক্রান্ত এক মামলায় এমনটাই প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাইকোর্ট। একগুচ্ছ দাবিতে মিছিলের অনুমতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয় বৃহত্তর গ্র্যাজুয়েট টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন। বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানিতে বিচারপতি প্রশ্ন করেন।
প্রশ্ন ছিল, “ক্লাশ না নিয়ে কীকরে শিক্ষকরা মিছিল করবেন?’’ আদালতের এই প্রশ্নের প্রেক্ষিতে মামলাকারীদের আইনজীবী বলেন, ‘সরকারের কাছে দীর্ঘদিন আবেদন করেও কাজ না হওয়ায় বাধ্য হয়ে রাস্তায় নামতে হচ্ছে শিক্ষকদের।’
এদিকে রাজ্যের তরফে আদালতে বলা হয়, ‘পুজোর আগে এমন মিছিলের অনুমতি দিলে, সাধারণ মানুষের সমস্যা হবে। পুজোর পরে অনুমতি দেওয়া হোক।’ সেই কথা শুনে বিচারপতি বলেন, ‘পুজো কোনও বিষয় নয়। মহালয়ায় আগে এমন মিছিল হতে পারে।’ আদালত আরও বলে, ‘রাজ্য ও আবেদনকারীরা ভিন্ন কোনও রাস্তা বা বিকল্প কোনও ফাঁকা জায়গায় জমায়েতের প্রস্তাব নিয়ে আসুন, তখন বিবেচনা করবো।’ মামলার পরবর্তী শুনানি আগামীকাল শুক্রবার।
প্রসঙ্গত, বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে আগামী ১৩ অক্টোবর আচার্য সদন থেকে বিকাশ ভবন পর্যন্ত মিছিল করার সিদ্ধান্ত নেয় বৃহত্তর গ্র্যাজুয়েট টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন। প্রায় তিন হাজার শিক্ষকের এই মিছিলে অংশ নেওয়ার কথা। কিন্তু মিছিলের অনুমতি দেয়নি পুলিশ। যার প্রেক্ষিতে আদালতের দ্বারস্থ হয় বৃহত্তর গ্র্যাজুয়েট টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন। সেই মামলাতেই এদিন এই কথা বলে আদালত।
এর আগে ২০২০ সালে বৃহত্তর গ্র্যাজুয়েট টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন বৈষম্যের অভিযোগ তোলে। সেই সময় অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের অভিযোগ ছিল, এক লক্ষ ১০ হাজার স্নাতক শিক্ষক বেতন বৈষম্যের শিকার। তাঁদের আরও অভিযোগ ছিল অন্যান্য রাজ্যে স্নাতকোত্তর শিক্ষকদের সঙ্গে স্নাতক শিক্ষকের বেতনের যে পার্থক্য পশ্চিমবঙ্গে তা অনেকটাই বেশি।