ভারতীয় শিক্ষণ মণ্ডল অসম প্ৰান্তের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত বিনায়ক রাও কানেতকরের প্রথম প্রয়াণ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে স্মারক বক্তৃতানুষ্ঠান
গুয়াহাটি, ১৯ জুলাই (হি.স.) : পুথিগত শিক্ষা এবং সংস্কৃতি, এই দুয়ের পরিভাষা এবং ব্যবহারিক আচরণের মধ্যে বিস্তর ফারাক। বক্তা ভারতীয় শিক্ষণ মণ্ডলের সর্বভারতীয় সভাপতি তথা দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী রাষ্ট্রীয় কলাকেন্দ্রের সদস্যসচিব, কার্যনির্বাহী ও আকাদেমিক প্রমুখ তথা কুশাভাও ঠাকরে পত্রকারিতা ও জনসঞ্চার বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই মেয়াদের উপাচার্য তথা মাখনলাল চতুর্বেদী রাষ্ট্রীয় পত্রকারিতা ও জনসঞ্চার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা-রেজিস্ট্রার, লেখক-কবি-অভিনেতা অধ্যাপক সচ্চিদানন্দ জোশি।
রাষ্ট্ৰীয় স্বয়ংসেবক সংঘের বরিষ্ঠ প্রচারক প্রয়াত বিনায়ক রাও বিশ্বনাথ কানেতকরের প্রথম প্রয়াণ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার রাতে গুয়াহাটির ভিআইপি রোডে (হেঙেরাবাড়ি) অবস্থিত সুদৰ্শনালয়-এর কৰ্মযোগী গৌরীশংকর চক্ৰবৰ্তী প্ৰেক্ষাগৃহে ভারতীয় শিক্ষণ মণ্ডল অসম প্রান্তের উদ্যোগে আয়োজিত স্মারক বক্তৃতানুষ্ঠানের প্রধান অতিথি তথা প্রধান বক্তা হিসেবে ‘ভারতীয় শিক্ষায় সংস্কৃতি’ শীর্ষক বিষয়ের ওপর বিশ্লেষাত্মক ভাষণ দিচ্ছিলেন অধ্যাপক সচ্চিদানন্দ জোশি।
বিশিষ্ট আমন্ত্রিত অতিথি-অভ্যাগতের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পরিপূ্র্ণ প্রেক্ষাগৃহে দীর্ঘ বক্তব্যে অধ্যাপক জোশি সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, সংস্কৃতির শিক্ষা, না-শিক্ষায় সংস্কৃতি। বিষয়টি নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা দরকার। বলেন, ভারতীয় বিদ্যার পরিভাষা একেবারে আলাদা। ভারতীয় বিদ্যায় ক্ল্যাসিফিক্যাশন আছে। এই ক্ল্যাসিফিক্যাশনে আছে সমৃদ্ধ দর্শন। দর্শন সংস্কৃতির বলিষ্ঠ উপকরণ। ভারতীয় সভ্যতা টিঁকে আছে সংস্কৃতির ওপর। তাই আজ পর্যন্ত কেউ ভারতীয় সংস্কৃতির বিরুদ্ধে টু শব্দ করার ‘হিম্মত’ দেখাননি।
প্রসঙ্গক্রমে ভারতীয় শিক্ষণ মণ্ডলের তদানীন্তন অখিল ভারতীয় সংগঠনমন্ত্ৰী, অসমে যৌবন থেকে প্রৌঢ়, টানা ৫০ বছর সংঘের কার্যকর্তা নির্মাণে আত্মোৎসর্গকারী প্রয়াত বিনায়ক রাও বিশ্বনাথ কানেতকরের শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত নানা সময় নানা অন্তর্নিহিত বক্তব্যের ব্যাখ্যা করেছেন বক্তা অধ্যাপক সচ্চিদানন্দ জোশি।
গুরু-শিষ্য কেমন হওয়া উচিত, সে সম্পর্কে বহু উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, এই দুয়ের সম্পর্ক আত্মিক। গুরুর (শিক্ষক) স্থানই আলাদা। কিন্তু আজকাল নানা কারণে এই সম্পর্কে দূরত্ব বেড়েছে দেখে খেদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এর পেছনে অনেকটা দায়ী মোবাইল-প্রবণতা। আজকাল মোবাইলে ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম ইত্যাদির মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীরা পঠন-পাঠন করে নিজেদের শিক্ষিত বলে প্রতিষ্ঠিত করতে বেশি আগ্রহী। মোবাইল অনলাইনে সূচনা দিতে পারে, কিন্তু প্রকৃত শিক্ষা দিতে পারে না। ফলে সরাসরি গুরুর কাছে প্রাপ্ত প্রকৃত শিক্ষা থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি বলেন, কোনও অবস্থায় উপযুক্ত শিক্ষা দিতে পারে না মোবাইল। মোবাইল-শিক্ষাকে খাটো করেন না, তবে সংস্কৃতিকে অবলম্বন করে নিজেকে শিক্ষিত করার ওপর জোর দিয়েছেন বক্তা। সংস্কৃতি কী এবং কাকে সংস্কৃতি বলে, তারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।
তাই তাঁর আহ্বান, গুরু-শিষ্যের পরম্পরা সম্মিলিতভাবে আমাদের বজায় রাখার প্রচেষ্টা করতে হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবক সহ অন্য সবাইকে বই পড়ার আহ্বান জানিয়ে গুরু-শিষ্যের পরম্পরা আঁকড়ে ধরার প্রয়োজনীয়তারও ব্যাখ্যা করেছেন।
ভারতীয় শিক্ষণ মণ্ডলের উত্তর অসম প্রান্ত সভাপতি নীলমোহন রায় সঞ্চালিত স্মারক বক্তৃতানুষ্ঠানে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের অসম ক্ষেত্র সংঘচালক ডা. উমেশচন্দ্ৰ চক্রবর্তী বিনায়ক রাও কানেতকরের স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য পেশ করেছেন। ১৯৬৫ সালে মহারাষ্ট্ৰের পুণে থেকে সংঘের প্রচারক হয়ে অসমে এসেছিলেন। ২০১৫ সাল পর্যন্ত অসমে প্ৰচারক হিসেবে হিন্দুদের সংগঠিত করতে ৫০ বছর অবস্থান করেছেন। গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে প্রবাস করে কার্যকর্তা নির্মাণে বিনায়কজির অবদান কতটা ছিল, সে সবের বর্ণনা করেছেন ডা. উমেশচন্দ্ৰ চক্রবর্তী।
এদিনের অনুষ্ঠানে ভারতীয় শিক্ষণ মণ্ডলের সর্বভারতীয় বোর্ডের সংরক্ষক অধ্যাপক ড. বিভাসচন্দ্র দাস, ডা. উমেশচন্দ্ৰ চক্রবর্তী, নীলমোহন রায়, প্রণতি দেবীকে সঙ্গে নিয়ে ‘বরেণ্য বিনায়কজী : এক অবিস্মরণীয় স্মৃতিগাথা’ শীর্ষক স্মরণিকার উন্মোচন করেছেন প্রধান অতিথি অধ্যাপক সচ্চিদানন্দ জোশি।

