নয়াদিল্লি, ১৭ জুন (হি.স.): নাম বদলে গিয়েছে নেহরু মেমোরিয়াল মিউজিয়াম এবং লাইব্রেরি সোসাইটির (এনএমএমএল)। শুক্রবার থেকে ভারত সরকারের অধীন এই স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানটি পরিচিত হবে কেবলমাত্র প্রধানমন্ত্রী সংগ্রহশালা এবং গ্রন্থাগার সোসাইটি (প্রাইম মিনিস্টার মিউজিয়াম অ্যান্ড লাইব্রেরি সোসাইটি) নামে। এই সিদ্ধান্ত জানাজানি হতেই কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
বিজেপি সাংসদ সুশীল মোদী বলেছেন, “কংগ্রেস নিজস্ব (জওহরলাল নেহরু) অবদানকে সংগ্রহশালায় সঠিকভাবে প্রদর্শন করেনি। আমি সংগ্রহশালা এবং কিছু নথি পরিদর্শন করেছি, এখন সংঘ্রশালা খুব ভালভাবে প্রদর্শিত হয়। আগে এটি শুধুমাত্র জওহরলাল নেহেরুর উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা হয়েছিল, কিন্তু এখন সমস্ত প্রধানমন্ত্রীর অবদান দেখানো হয়েছে এবং তাই নাম শুধুমাত্র জওহরলাল নেহেরুর নামে হতে পারে না।” কংগ্রেস নেতা গৌরব বল্লভ বলেছেন, “তাঁরা মনে করেন, বোর্ড থেকে জওহরলাল নেহরুর নাম বাদ দিলে তাঁর ব্যক্তিত্ব খর্ব হবে। দেশের মানুষ নেহরুজিকে আধুনিক ভারতের স্থপতি বলে মনে করেন…আমি মোদীজিকে বাজপেয়ীর একটি উক্তি মনে করিয়ে দিতে চাই – ছোটে মন সে কই বাদা নেহি বন পায়েগা। দেশের সামনে আপনার ক্ষুদ্র মানসিকতা প্রদর্শন করছেন। আপনি পন্ডিত নেহরুর নাম বোর্ড থেকে মুছে ফেলবেন, কিন্তু কীভাবে তাঁকে মানুষের হৃদয় থেকে মুছে ফেলবেন?”
এ বিষয়ে সুর ছড়িয়েছেন উদ্ধব ঠাকরে ঘনিষ্ঠ নেতা সঞ্জয় রাউতও। শনিবার সঞ্জয় বলেছেন, “আমি একমত যে অন্যান্য প্রধানমন্ত্রীদের অবদান দেখানো উচিত। একটি বিভাগ তৈরি করা যেতে পারে যেখানে অন্যান্য প্রধানমন্ত্রীর অবদানগুলি প্রদর্শিত হতে পারে, তবে সংগ্রহশালার নাম পরিবর্তন করার প্রয়োজন নেই।” উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার এনএমএমএল-এর বিশেষ বৈঠকে প্রতিষ্ঠানের নামবদলের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি ওই সোসাইটির সহ-সভাপতি। শুক্রবার বিবৃতি দিয়ে এ কথা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রক। এই সোসাইটির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ২৯ জন সদস্যের মধ্যে রয়েছেন অমিত শাহ, নির্মলা সীতারামন, ধর্মেন্দ্র প্রধান, জি কিষাণ রেড্ডি, অনুরাগ ঠাকুরের মতো কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা।