গুয়াহাটির পাঁচতারা হোটেলে মহারাষ্ট্রের ‘বিদ্রোহী’ বিধায়কদের নিয়ে বৈঠকে একনাথ শিন্ডে, রয়েছেন অসমের দুই মন্ত্রী-সাংসদ সহ চার বিজেপি নেতা

বাইরে থেকে মনিটরিঙে ‘চাণক্য’খ্যাত অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা

গুয়াহাটি, ২২ জুন (হি.স.) : গুয়াহাটির পাঁচতারা হোটেল রেডিসন ব্লু-তে দলের ৩৯ জন বিধায়ককে নিয়ে বৈঠকে বসেছেন শিবসেনার ‘বিদ্রোহী’ বিধায়ক তথা ক্যাবিনেটমন্ত্ৰী দলের শীর্ষ নেতা একনাথ শিন্ডে। মহারাষ্ট্রের মোট ৪০ জন বিধায়কদের বৈঠকে রয়েছেন অসমের দুই ক্যাবিনেট মন্ত্রী পীযূষ হাজরিকা ও জয়ন্তমল্ল বরুয়া, তেজপুরের সাংসদ পল্লবলোচন দাস এবং বিধায়ক সুশান্ত বরগোহাঁই। ওই বৈঠকে নির্ণয় হবে মহারাষ্ট্রের উদ্ধব ঠাকরে নেতৃত্বাধীন মহা বিকাশ অঘাড়ি (এমভিএ) সরকারের ভবিষ্যত। হোটেল রেডিসন ব্লু-এর বাইরে একনাথ শিন্ডের ঘনিষ্ঠরা জানান, শিবসেনার আরও দুই বিধায়ক কয়েক ঘণ্টার মধ্যে গুয়াহাটি এসে পৌঁছচ্ছেন।

গুয়াহাটি এ মুহূর্তে মহারাষ্ট্র রাজনীতির হটস্পট। আজ বুধবার ভোররাতে একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বে মহারাষ্ট্রের ৪০ জন বিধায়ক গুয়াহাটির লোকপ্রিয় গোপীনাথ বরদলৈ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছেন। বিমানবন্দরে তাঁদের স্বাগত জানান অসমের বিজেপি বিধায়ক সুশান্ত বরগোহাঁই। বিমানবন্দরে উপস্থিত সাংবাদিকদের একনাথ বলেন, তিনি এবং তাঁর অনুগামীরা বালাসাহেব ঠাকরের হিন্দুত্বকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।

বালাসাহেবর হিন্দুত্বের নীতি অবলম্বন করতে শিবসেনার বর্তমান প্রধান উদ্ধব ঠাকরেকে বহুবার আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু তাঁর কোনও কথাই কানে তুলেননি উদ্ধব। সোমবারও তিনি বিজেপির সঙ্গে ফের জোট গড়তেও শিবসেনা-প্রধানকে নাকি বলেছিলেন। বলেছেন, কংগ্রেস ও এনসিপি-র সঙ্গ ছেড়ে হিন্দুত্বের প্রশ্নে বিজেপির হাত ধরতে। তাঁর এই আহ্বানেও সাড়া দেননি তিনি। তাই তিনি তাঁর সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে এসেছেন। একনাথের দাবি, মহারাষ্ট্র বিধায়নসভায় ৫৫ জন শিবসেনা বিধায়কের মধ্যে ৪৬ জন বিধায়ক তাঁকে সমর্থন জানাচ্ছেন। তবে তিনি এখনও শিবসেনার সৈনিক হিসেবে নিজেকে দাবি করেছেন। দল ছাড়বেন না।

একনাথ শিন্ডে আরও বলেন, অসমে হিমন্তবিশ্ব শর্মা নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার খুব ভালো কাজ করছে। অসম বিজেপি তাঁদের এখানে আনার বন্দোবস্ত করেছে। অসম বিজেপির আপ্যায়নে তাঁরা আপ্লুত, বলেন শিবসৈনিক একনাথ।

এদিকে মহারাষ্ট্রের বিধায়কদল গুয়াহাটি আসার আগে মধ্যরাতেই হোটেল রেডিসন ব্লু-তে গিয়ে সব ব্যবস্থাদির খবরাখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন বলে এক সূত্রের খবর। গুয়াহাটি মহারাষ্ট্র রাজনীতির হটস্পটে পরিণত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ওয়াকিবহাল মহলের বক্তব্য, দেশের সাম্প্রতিককালের রাজনীতিতে হিমন্তবিশ্ব শৰ্মা মজবুত স্থান দখল করে নিয়েছেন। হিমন্তবিশ্বের রাজনৈতিক কূটনীতি ও কৌশলে দলের সর্বভারতীয় নেতৃত্ব আস্থা রাখতে শুরু করেছেন। এর কারণ হিসেবে মহল মনে করছে, উত্তর-পূর্বঞ্চলের রাজনীতিতে ড. শৰ্মার প্ৰভাব ব্যাপক রূপে প্ৰতিফলিত হচ্ছে। তাই মহারাষ্ট্ৰে রাজনৈতিক সংকট-মোটনে মধ্যস্থতার দায়িত্ব হিমন্তবিশ্ব শৰ্মার হাতে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তুলে দিয়েছে বলে ওই মহলের বক্তব্য। বলা হচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা বাইরে থেকে রেডিসনে চলমান গোটা বৈঠকের মনিটরিং করছেন। যদিও তিনি আজ রাজ্যের বিভিন্ন বন্যাক্রান্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *