তেলিয়ামুড়া, ১৮ আগস্ট: সাত দফা দাবি-দাওয়া নিয়ে আত্মসমর্পণকারী এলএলএফটি বৈরীরা পথ অবরোধকে কেন্দ্র করে তেলিয়ামুড়ার হাতাই কতর সাধুপাড়া এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। আন্দোলনকারীরা আগরতলা-আসাম জাতীয় সড়ক অবরোধ করায় কিছু সময়ের জন্য ব্যাহত হয় যান চলাচল। পরে মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহার নির্দেশে জনজাতি কল্যাণ দফতরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মার হস্তক্ষেপে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, আত্মসমর্পণের পর সরকারিভাবে তাঁদের জন্য কী কী সুযোগ-সুবিধা এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা রয়েছে, সে বিষয়ে তাঁদের যথাযথভাবে জানানো হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ থাকলেও কার্যকর কোনও সমাধান না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত জাতীয় সড়ক অবরোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে দাবি তাঁদের।
অবরোধকারীদের সঙ্গে আলোচনায় মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা আগামী ২১ আগস্ট তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় বসে সাত দফা দাবিগুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও সমাধানের আশ্বাস দেন। মন্ত্রীর আশ্বাসের পরই জাতীয় সড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা।
তবে আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী ২১ আগস্টের বৈঠকে তাঁদের দাবিগুলির সন্তোষজনক সমাধান না হলে ফের বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবেন তাঁরা।
এদিন মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা বলেন, পথ অবরোধ করে কোনও সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। আলোচনার টেবিলে বসেই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। আত্মসমর্পণকারী এলএলএফটি সদস্যদের দাবি ও সমস্যাগুলি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে বলেও তিনি জানান। পাশাপাশি, আত্মসমর্পণকারীদের জন্য সরকারিভাবে কী কী সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, তা তাঁদের বিস্তারিতভাবে জানানো হবে বলে আশ্বাস দেন মন্ত্রী।
মন্ত্রী আরও বলেন, গত ৩৫ বছরে জনজাতি জনগোষ্ঠীর স্বার্থে উন্নয়নের ক্ষেত্রে তৎকালীন সরকারগুলি প্রত্যাশিত ভূমিকা নেয়নি। বর্তমান সরকার জনজাতি সমাজের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছে। জনজাতি জনগণের সমস্যা সমাধান ও তাঁদের উন্নয়নের প্রশ্নে সরকার কোনওভাবেই পিছিয়ে থাকবে না বলেও তিনি আশ্বাস দেন। এখন নজর ২১ আগস্টের বৈঠকের দিকে। ওই বৈঠকে সাত দফা দাবির কতটা সমাধান হয়, নাকি ফের আন্দোলনের পথে হাঁটেন আত্মসমর্পণকারী এলএলএফটি সদস্যরা, সেদিকেই তাকিয়ে সংশ্লিষ্ট মহল।



















