রাঁচি, ১৬ আগস্ট (আইএএনএস): ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন-এর নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের প্রতিবাদে পড়ুয়াদের আন্দোলন রবিবার ২৩তম দিনে পড়ল। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চললেও দাবি পূরণ না হওয়ায় এবার লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে ‘ফাঁকা আশ্বাস’-এর অভিযোগ তুলেছেন আন্দোলনরত পড়ুয়ারা।
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, রবিবারের কর্মসূচিতে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন এবং রাহুল গান্ধীর কুশপুতুল পোড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করেও সরকারের কাছ থেকে কোনও ইতিবাচক সাড়া না মেলায় তাঁরা আন্দোলনের ধরন পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছেন।
আন্দোলনকারী পড়ুয়া রবীন্দ্র কুমার পাসওয়ান আইএএনএসকে বলেন, গত ২২ দিন ধরে তাঁরা গান্ধীবাদী নীতিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়েছেন। কিন্তু সরকার তাঁদের দাবি উপেক্ষা করছে। তাঁর অভিযোগ, সরকারের আচরণই পড়ুয়াদের আরও কঠোর আন্দোলনের পথে যেতে বাধ্য করছে।
পাসওয়ান বলেন, “এখন আমরা করো অথবা মরো লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। জেএসএসসি পরীক্ষা বাতিল, সিবিআই তদন্ত এবং টিডিপিএল-এর মাধ্যমে পরিচালিত সমস্ত পরীক্ষা বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।”
আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের অভিযোগ, এতদিন ধরে বিক্ষোভ চললেও সরকার তাঁদের দাবির প্রতি যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে না। রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করে পাসওয়ান বলেন, কংগ্রেস ঝাড়খণ্ডে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা-র সঙ্গে জোটে রয়েছে। রাহুল গান্ধী ফোন ও সমাজমাধ্যমে পড়ুয়াদের পাশে থাকার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলে তাঁর দাবি।
পাসওয়ানের প্রশ্ন, রাহুল গান্ধী যদি সত্যিই পড়ুয়াদের পাশে থাকেন, তাহলে তাঁদের সাহায্য করছেন না কেন? কংগ্রেসের এক নেতার বক্তব্য নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, একদিকে রাহুল গান্ধী পড়ুয়াদের পাশে থাকার কথা বলছেন, অন্যদিকে তাঁর দলের নেতাদের বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হচ্ছে।
এই প্রসঙ্গে ঝাড়খণ্ডের মন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেত্রী শিলপি নেহা তিরকির একটি মন্তব্যের কথা উল্লেখ করেন পাসওয়ান। অভিযোগ, সরকারের সঙ্গে দেখা করা পড়ুয়া প্রতিনিধিদলে প্রকৃত অনশনকারী বা আন্দোলনরত পড়ুয়ারা ছিলেন না বলে তিনি মন্তব্য করেছিলেন।
পাসওয়ানের দাবি, পড়ুয়াদের আন্দোলনের প্রশ্নে জেএমএম এবং কংগ্রেস—দুই দলই সমানভাবে দায়ী। তিনি বলেন, কংগ্রেস সত্যিই পড়ুয়াদের পাশে থাকলে এই বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করা উচিত। একইসঙ্গে আন্দোলনকারীরা জেএমএম ও কংগ্রেস—দুই দলের বিরুদ্ধেই লড়াই চালিয়ে যাবেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে, শনিবার ঝাড়খণ্ড লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারী মোর্চা-র নেতা দেবেন্দ্রনাথ মাহতোকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়। অনশন করার কারণে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তিনি রাঁচির একটি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। অভিযোগ, ‘তিরঙ্গা যাত্রা’-য় যোগ দিতে হাসপাতাল চত্বর থেকে বেরোনোর অনুমতি তাঁকে দেওয়া হয়নি।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং পরীক্ষাগুলি বাতিলের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চলবে।



















