নয়াদিল্লি, ১৬ আগস্ট (আইএএনএস): দিল্লির পালাম ভিলেজ থানায় নথিভুক্ত মাদকদ্রব্য ও সাইকোট্রপিক সাবস্ট্যান্সেস (এনডিপিএস) আইনের দুটি পৃথক মামলায় চার অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, দুটি মামলাতেই দ্রুত বিচার সম্পন্ন হয়েছে এবং মোট ১.৪ কেজির বেশি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছিল।
দিল্লি পুলিশের দক্ষিণ-পশ্চিম জেলার রবিবারের প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দ্বারকা আদালতের জেএমএফসি ফার্স্ট ক্লাস বিচারক সৌরভ গোয়েলের আদালত চার অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেন।
এফআইআর নম্বর ১৩০/২৬-এ এনডিপিএস আইনের ২০ নম্বর ধারায় অভিযুক্ত অনুজ কুমার এবং বিশাল ওরফে স্যাম্পিকে ১০ আগস্টের আদেশে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। পুলিশের দাবি, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার ১৩৩ দিনের মধ্যে এবং ৪৫ দিনের বিচারপ্রক্রিয়ার পর এই মামলায় সাজা নিশ্চিত হয়।
অন্য মামলায়, এফআইআর নম্বর ৬৬/২৬-এ একই ধারায় অভিযুক্ত সঞ্জয় শর্মা এবং রফিক আহমেদকে ৩ আগস্টের আদেশে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। পুলিশের দাবি, অপরাধের ছয় মাসের মধ্যে এবং ১১৯ দিনের বিচারপ্রক্রিয়ার পর এই মামলার নিষ্পত্তি হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তকারী দল এবং প্রসিকিউশন শাখার সমন্বিত প্রচেষ্টায় আদালতে মামলাগুলি কার্যকরভাবে উপস্থাপন করা হয়। সহকারী সরকারি আইনজীবী বিকাশ খারব এবং সুধাংশু সাইনি আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে প্রমাণ ও মামলার তথ্য তুলে ধরেন। এর ফলেই চার অভিযুক্তই দোষী সাব্যস্ত হন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, একটি মামলায় ৪ ফেব্রুয়ারি সঞ্জয় শর্মাকে ৪৪২ গ্রাম গাঁজা-সহ আটক করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রফিক আহমেদকে গ্রেফতার করা হয় এবং তাঁর কাছ থেকে আরও ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার হয় বলে অভিযোগ। ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (এফএসএল)-র রিপোর্টে উদ্ধার হওয়া পদার্থটি গাঁজা বলে নিশ্চিত হওয়ার পর ৬ এপ্রিল আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়।
অন্য মামলায় ২৯ মার্চ অনুজ কুমারকে ৫৪৫ গ্রাম গাঁজা-সহ আটক করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিশাল ওরফে স্যাম্পিকে গ্রেফতার করা হয় এবং তাঁর কাছ থেকে আরও ৬৮ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার হয়। এফএসএল রিপোর্টে মাদকের প্রকৃতি নিশ্চিত হওয়ার পর ২৬ জুন চার্জশিট জমা দেওয়া হয়।
দক্ষিণ-পশ্চিম জেলার ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ অমিত গোয়েল বলেন, এই দুই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়া দিল্লি পুলিশ ও প্রসিকিউশন শাখার ‘আন্তরিকতা, পেশাদারিত্ব, সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং দৃঢ় সংকল্পের’ প্রতিফলন।
পুলিশের দাবি, এই ফলাফল বৈজ্ঞানিক তদন্তের গুরুত্বও তুলে ধরে। একইসঙ্গে মাদক সংক্রান্ত অপরাধ দমন এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।



















