কলকাতা, ১৩ আগস্ট (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গের হাবড়া থেকে গ্রেফতার পাক নাগরিক ওয়াহাব আলমের পরিকল্পনা ছিল প্রথমে বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়া। সেখানে কিছুদিন নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পর নতুন পরিচয় ও নতুন দায়িত্ব নিয়ে ফের পশ্চিমবঙ্গে ঢোকার পরিকল্পনা ছিল তার। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর হ্যান্ডলারদের নির্দেশেই এই পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে এসটিএফের জেরায় স্বীকার করেছে আলম।
পূর্বাঞ্চলে ভারতীয় সেনা, নৌবাহিনী ও রেলের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে পাকিস্তান থেকে আলমকে পশ্চিমবঙ্গে পাঠানো হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। জেরায় সে জানিয়েছে, বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার পর কিছুদিন সেখানে থাকার কথা ছিল তার। এরপর নতুন দায়িত্ব ও পরিচয় নিয়ে তাকে ফের পশ্চিমবঙ্গে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল।
আলমকে জেরা এবং তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া নেটবুক পরীক্ষা করে বাংলাদেশে থাকা এক আইএসআই এজেন্টের সন্ধান পেয়েছেন এসটিএফ আধিকারিকরা। পাভেল নামে ওই এজেন্ট বর্তমানে বাংলাদেশের যশোর থেকে কাজ করছিল বলে তদন্তকারীদের সূত্রে খবর। বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার পর আলমের সঙ্গে পাভেলের দেখা করার কথা ছিল। পাভেলেরই বাংলাদেশে তার জন্য নিরাপদ আস্তানার ব্যবস্থা করার কথা ছিল। কিছুদিন সেখানে থাকার পর নতুন দায়িত্ব সম্পর্কে তাকে জানিয়ে ফের পশ্চিমবঙ্গে পাঠানোর পরিকল্পনাও ছিল বলে জানা গিয়েছে।
তদন্তকারীদের কাছে আলম জানিয়েছে, চলতি বছরের শুরুতে বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ার পর ভোটার তালিকা থেকে তার নাম বাদ পড়ায় সে এবং পাকিস্তানে থাকা তার হ্যান্ডলাররা সতর্ক হয়ে যায়। এর পরেই পাকিস্তান থেকে তাকে টপসিয়া এলাকা ছেড়ে পশ্চিমবঙ্গের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী কোনও জেলায় কিছুদিন আত্মগোপন করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ায় আশ্রয় নিয়েছিল আলম। সেখান থেকেই তাকে গ্রেফতার করে এসটিএফ। আলমকে জেরা করে টপসিয়ায় তার স্থানীয় সহযোগী মহম্মদ ইজাজের নামও সামনে আসে। পরে ইজাজকেও গ্রেফতার করা হয়।
তদন্তে জানা গিয়েছে, টপসিয়ায় ইজাজের বাড়িতে ভাড়াটে হিসেবে থাকত আলম। শুধু আশ্রয় দেওয়াই নয়, পাকিস্তানি নাগরিকটির জন্য আধার কার্ড, প্যান কার্ড এবং শেষ পর্যন্ত ভুয়ো ভারতীয় ভোটার পরিচয়পত্র বা ইপিআইসি কার্ড তৈরির ব্যবস্থাতেও ইজাজ সাহায্য করেছিল বলে অভিযোগ।
এসটিএফ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ২০১২ সালে ভারত-নেপাল সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিল আলম। এরপর থেকে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় ঘন ঘন ঠিকানা বদলে বসবাস করছিল সে।
—আইএএনএস

















