News Flash

  • Home
  • মুখ্য খবর
  • গবেষণা, উদ্ভাবন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার আরও সম্প্রসারিত করতে হবে: মুখ্যমন্ত্রী
Image

গবেষণা, উদ্ভাবন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার আরও সম্প্রসারিত করতে হবে: মুখ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৬ জুলাই: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কাজে লাগাতে হবে। পরিবেশ সংরক্ষণে নজরদারি আরও কঠোর করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। আজ সচিবালয়ের কনফারেন্স হল-১-এ ত্রিপুরা স্টেট কাউন্সিল ফর সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি এবং ত্রিপুরা স্টেট পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ডের পর্যালোচনা বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন।

বৈঠকের শুরুতে ত্রিপুরা স্টেট কাউন্সিল ফর সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির সচিব চৈতন্য মূর্তি স্বচিত্র উপস্থাপনার মাধ্যমে পরিষদের বিভিন্ন কাজকর্ম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রসারে গৃহীত উদ্যোগ, গবেষণা ও উদ্ভাবনমূলক কর্মকাণ্ড, বিজ্ঞান নগরী (সায়েন্স সিটি), উদয়পুর বিজ্ঞান কেন্দ্র, সুকান্ত একাডেমি, মহাকাশ প্রযুক্তির ব্যবহার, বিজ্ঞানভিত্তিক অবকাঠামো উন্নয়ন এবং চলমান বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। উপস্থাপনায় বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ গড়ে তোলা, শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির বিকাশ, বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির সম্প্রসারণে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের বিষয়েও আলোকপাত করা হয়।

পর্যালোচনা বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি। তাই গবেষণা, উদ্ভাবন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার আরও সম্প্রসারিত করতে হবে। বিজ্ঞানকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করে নতুন প্রজন্মের মধ্যে বৈজ্ঞানিক মনোভাব গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুণগত মান বজায় রেখে বাস্তবায়ন এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।

ত্রিপুরা স্টেট পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ডের কাজকর্ম সম্পর্কে প্রধান সচিব কে. শশী কুমার স্বচিত্র উপস্থাপনার মাধ্যমে বিস্তারিত তুলে ধরেন। উপস্থাপনায় বায়ু, জল ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশের গুণগত মান পর্যবেক্ষণ, শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলির পরিবেশগত অনুমোদন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সংরক্ষণে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ, দূষণ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং পরিবেশ আইন বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

বৈঠকে এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রতিনিয়ত নজরদারি চালিয়ে যেতে হবে। হাসপাতাল, নার্সিংহোম, শিল্প-কারখানা, হোটেল এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে জৈব-চিকিৎসা বর্জ্য ও বিপজ্জনক বর্জ্যের যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। পরিবেশ সংক্রান্ত বিধি-বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে নিয়মিত তদারকি চালানোর জন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নির্দেশ দেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, পরিবেশ দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে আরও বেশি সচেতন করতে হবে। পরিবেশ রক্ষাকে দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত করার লক্ষ্যে বিদ্যালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার এলাকা এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে সম্পৃক্ত করে ধারাবাহিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। একইসঙ্গে মাঠ পর্যায়ে গিয়ে জনগণের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নির্দেশ দেন।

তিনি একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, স্বর্ণকারদের কর্মক্ষেত্র থেকে নির্গত দূষণকারী ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় বিধি-বিধান কার্যকর করা, বাজার এলাকাগুলিতে সার্বিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত নজরদারি জোরদার করার নির্দেশ দেন।

মুখ্যমন্ত্রী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ, নির্মাণস্থলে বায়ু ও শব্দদূষণ রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, সকল যানবাহনের দূষণ নিয়ন্ত্রণ শংসাপত্র (পিইউসি) নিশ্চিত করা এবং ইটভাটাগুলিতে নির্ধারিত জিগ-জ্যাগ প্রযুক্তি অনুসরণ করা হচ্ছে কি না তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়াও সুইমিং পুল ও বিভিন্ন জলাশয়ের জলের গুণগত মান নিয়মিত পরীক্ষা, মাটি কাটার আগে প্রয়োজনীয় পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহণ নিশ্চিত করা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে জেলা ও মহকুমা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় আরও জোরদার করার নির্দেশ দেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ রক্ষায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে রাজ্যে একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে সমন্বয়ের ভিত্তিতে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

বৈঠকে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও পরিবেশ দপ্তরের মন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মাও আলোচনায় অংশ নিয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রসার এবং পরিবেশ সংরক্ষণে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগকে আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বৈঠকে সচিব অপূর্ব রায়, ত্রিপুরা দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের সদস্য সচিব বিশু কর্মকার সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন আধিকারিক, ত্রিপুরা স্টেট কাউন্সিল ফর সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি এবং ত্রিপুরা স্টেট পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ডের পদস্থ আধিকারিকগণ উপস্থিত ছিলেন।

Releated Posts

রথযাত্রা মানবতা, ভ্রাতৃত্ববোধ, ভালোবাসা ও ঐক্যের এক অনন্য প্রতীক: মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ১৬ জুলাই: রথযাত্রা শুধুমাত্র একটা ধর্মীয় উৎসব নয়, এই উৎসব মানবতা, ভ্রাতৃত্ববোধ, ভালোবাসা ও ঐক্যের এক অনন্য…

ByByReshmi Debnath Jul 16, 2026

প্রকাশিত হল নিট-ইউজি ২০২৬-এর ফল, মেডিক্যালে ভর্তির যোগ্য ১১.২১ লক্ষ পরীক্ষার্থী

নয়াদিল্লি, ১৬ জুলাই: জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা (এনটিএ) বৃহস্পতিবার নিট-ইউজি ২০২৬ পুনঃপরীক্ষার ফল প্রকাশ করেছে। এবারের পরীক্ষায় ১১.২১ লক্ষ…

ByBySandeep Biswas Jul 16, 2026

সংখ্যার সমীকরণে অনিশ্চয়তা, বর্ষাকালীন অধিবেশনের কার্যসূচী থেকে বাদ সীমা পুনর্নির্ধারণ ও নারী সংরক্ষণ বিল

অভিজিৎ রায় চৌধুরী  নয়াদিল্লি, ১৬ জুলাই : সংসদে প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন নিশ্চিত হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে কেন্দ্র সরকার…

ByBySandeep Biswas Jul 16, 2026

রেলে কাটা পড়ে মৃত্যু বৃদ্ধের, চাঞ্চল্য

আগরতলা, ১৬ জুলাই: রেলে কাটা পড়ে মৃত্যু হয়েছে এক বৃদ্ধের। ওই ঘটনায় বিশ্রামগঞ্জ থানার অন্তর্গত নাথুং বাজার ও…

ByByTaniya Chakraborty Jul 16, 2026

Leave a Reply

Scroll to Top