নয়াদিল্লি, ১৯ জুন : ১,৫০০ কোটিরও বেশি সরকারি ব্যাংকের অর্থ জালিয়াতির অভিযোগ এবং ঋণ পুনর্গঠনকারী সংস্থাগুলির (এআরসি) ভূমিকা নিয়ে আদালতের তত্ত্বাবধানে তদন্তের দাবিতে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে কেন্দ্রকে নোটিস জারি করল সুপ্রিম কোর্ট। চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি এন. কোটিশ্বর সিংহের বেঞ্চ শুক্রবার মামলাটি গ্রহণ করে নোটিস জারি করে।
আইনজীবী অশ্বিনী কুমার দুবের মাধ্যমে দায়ের করা আবেদনে দাবি করা হয়েছে, জেকেএম ইনফ্রা প্রজেক্টস লিমিটেড নামে একটি সংস্থার প্রায় ১,৫৩৭.৫৯ কোটি টাকার ঋণ ও সুদের বকেয়া শেষ পর্যন্ত দুটি অ্যাসেট রিকনস্ট্রাকশন কোম্পানি, প্রুডেন্ট এআরসি লিমিটেড এবং ফিনিক্স এআরসি প্রাইভেট লিমিটেডের মাধ্যমে মাত্র ৭৩.৫০ কোটি টাকায় নিষ্পত্তি করা হয়। এর ফলে সরকারি ব্যাংকগুলির ৯৫ শতাংশেরও বেশি অর্থের ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ।
আবেদনকারীর দাবি, নয়ডা-ভিত্তিক জালান পরিবারের নিয়ন্ত্রিত জেকেএম ইনফ্রা ২০১২ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারি ব্যাংকগুলির একটি কনসোর্টিয়ামের কাছ থেকে প্রায় ৯১২ কোটি টাকার ঋণ নিয়েছিল। অথচ জামানতের মূল্য ছিল মাত্র ৬০ থেকে ৭২ কোটি টাকা। ঋণ পাওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই সংস্থাটি খেলাপি হয়ে যায়।
আবেদনে আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ং (ইওয়াই)-এর ফরেন্সিক অডিট রিপোর্টের উল্লেখ করে দাবি করা হয়েছে, ভুয়ো নথি, জাল বিল, অপ্রকাশিত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, শেল কোম্পানি ও অস্তিত্বহীন সরবরাহকারী সংস্থার মাধ্যমে ৯০২ কোটিরও বেশি টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
আবেদনকারীর অভিযোগ, অডিট রিপোর্টে রিজার্ভ ব্যাংকের নির্দেশিকা অনুযায়ী অ্যাকাউন্টটিকে জালিয়াতি হিসেবে চিহ্নিত করার মতো সমস্ত উপাদান থাকলেও তা করা হয়নি এবং অর্থ উদ্ধারে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ২০২০ সালে এসবিআই উল্লেখযোগ্য ছাড়ে ঋণটি প্রুডেন্ট এআরসির কাছে হস্তান্তর করে এবং পরে ২০২৫ সালে সেটি ফিনিক্স এআরসির হাতে যায়। একই বছরের ৩১ অক্টোবর ফিনিক্স এআরসি ১,৫৩৭ কোটিরও বেশি বকেয়ার বিপরীতে মাত্র ৭৩.৫০ কোটি টাকায় সমঝোতা করে।
আবেদনে বলা হয়েছে, পুরো প্রক্রিয়ায় কোনও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়নি, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির মধ্যে সমন্বিত তদন্তও হয়নি।
এই ঘটনায় দিল্লি অর্থনৈতিক অপরাধ শাখার ৫৩/২০২১ নম্বর এবং উত্তরপ্রদেশের গৌতমবুদ্ধ নগরের ফেজ-১ থানার ৪৩/২০২৬ নম্বর এফআইআরের উল্লেখ করা হয়েছে। দিল্লির মামলায় দাখিল করা ক্লোজার রিপোর্ট ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আদালত খারিজ করে দিয়ে আরও তদন্তের নির্দেশ দেয় বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি), রিজার্ভ ব্যাংক, আয়কর বিভাগ এবং কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রকের কাছে একাধিক অভিযোগ জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
জনস্বার্থ মামলায় অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন (পিএমএলএ)-এর অধীনে ইডি-র পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, সিরিয়াস ফ্রড ইনভেস্টিগেশন অফিস (এসএফআইও)-এর অনুসন্ধান এবং রিজার্ভ ব্যাংকের মাধ্যমে ব্যাংক ও এআরসিগুলির ভূমিকা খতিয়ে দেখার নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি খেলাপি সংস্থার প্রোমোটারদের পিছনের দরজা দিয়ে সম্পদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়া রোধ এবং সরকারি অর্থ অপব্যবহারের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করার আবেদনও জানানো হয়েছে।



















