নয়াদিল্লি, ১৯ জুন (আইএএনএস): তফসিলি জাতি (এসসি) এবং অনগ্রসর শ্রেণির (ওবিসি) শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি প্রকল্পে আবেদনের ক্ষেত্রে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তুলে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সামাজিক ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রণালয়। শুক্রবার এক সরকারি বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৃত্তি প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, স্বচ্ছ এবং শিক্ষার্থী-বান্ধব করে তুলতে সামাজিক ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়ন বিভাগ একাধিক সংস্কারমূলক পদক্ষেপ ও ডিজিটাল উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তারই অংশ হিসেবে ডোমিসাইল সার্টিফিকেটের প্রয়োজনীয়তা বাতিল করা হয়েছে।
সরকারের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে শিক্ষার্থীদের নথিপত্র সংক্রান্ত ঝামেলা ও প্রশাসনিক বোঝা কমবে। একইসঙ্গে বৃত্তির আবেদন প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে এবং সুবিধাভোগীদের জন্য সরকারি সহায়তা পাওয়ার পথ সুগম হবে।
বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী নিজেদের রাজ্যের বাইরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেন, তাঁদের জন্য এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে দেশের হাজার হাজার যোগ্য আবেদনকারী সরাসরি উপকৃত হবেন।
বর্তমানে এসসি ও ওবিসি শিক্ষার্থীদের জন্য পরিচালিত প্রি-ম্যাট্রিক এবং পোস্ট-ম্যাট্রিক বৃত্তি প্রকল্পের আওতায় প্রতি বছর প্রায় ১.২ কোটি শিক্ষার্থী আর্থিক সহায়তা পান। এতদিন এই প্রকল্পগুলিতে আবেদন করার জন্য ডোমিসাইল সার্টিফিকেট একটি বাধ্যতামূলক নথি ছিল।
সরকারি বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ডোমিসাইল সার্টিফিকেটের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ায় আবেদনকারীদের নথিপত্রের সংখ্যা কমবে, আবেদন সংক্রান্ত ব্যয় হ্রাস পাবে এবং বৃত্তি সুবিধা পাওয়া আরও সহজ হবে।
ডিজিটাল প্রশাসনকে আরও শক্তিশালী করতে বিভাগটি এসইটিইউ (স্কলারশিপ ফর এডুকেশনাল ট্রান্সফরমেশন অ্যান্ড আপলিফটমেন্ট) নামে একটি নতুন পরিষেবা চালু করেছে, যা উমাং প্ল্যাটফর্মে উপলব্ধ।
এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে যোগ্য আবেদনকারী, প্রাতিষ্ঠানিক নোডাল অফিসার, জেলা নোডাল অফিসার এবং রাজ্য সরকারি কর্মকর্তারা একই ইন্টারফেস থেকে আবেদন নিবন্ধন, আবেদনপত্রের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ, যাচাইকরণ এবং অন্যান্য পরিষেবা গ্রহণ করতে পারবেন। এর ফলে বৃত্তি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকার জানিয়েছে, এই উদ্যোগগুলি অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, প্রশাসনিক জটিলতা হ্রাস এবং কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির কার্যকর বাস্তবায়নের বৃহত্তর লক্ষ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর সংস্কারের মাধ্যমে আরও বেশি শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছানো এবং সময়মতো সহায়তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছে বিভাগ।



















