নয়ডা, ১৩ এপ্রিল (আইএএনএস): কম মজুরি এবং বেতন বৃদ্ধির দাবিতে সোমবার উত্তরপ্রদেশের নয়ডায় ব্যাপক শ্রমিক বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়। ফেজ-২ শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভকারীরা গাড়ি ভাঙচুর, সম্পত্তি নষ্ট এবং পুলিশের দিকে পাথর ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে।
বেসরকারি উৎপাদন ইউনিটে কর্মরত শ্রমিকদের নেতৃত্বে এই আন্দোলনের জেরে নয়ডা লিংক রোডে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে চিল্লা বর্ডার থেকে আসা রাস্তায় অবরোধের কারণে দিল্লি থেকে নয়ডাগামী যান চলাচল দীর্ঘ সময় ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
আইএএনএস-কে শ্রমিকরা জানান, দীর্ঘদিন একই সংস্থায় কাজ করেও তাঁদের বেতন বাড়েনি। এক শ্রমিক বলেন, “পাঁচ বছর ধরে কাজ করছি, এখনও মাসে প্রায় ১২ হাজার টাকা পাই। বেতন বাড়ানোর কথা বললে চাকরি ছাড়ার হুমকি দেওয়া হয়।”
অন্য এক শ্রমিক বলেন, “যারা ৫০ হাজার টাকা রোজগার করে, তারাও ২০০ টাকা কেজি দরে তেল কিনছে, আমরাও সেই দামে কিনি। আমাদের জন্য কি আলাদা বাজার আছে?” তিনি জানান, শুধুমাত্র ঘর ভাড়াতেই মাসে প্রায় ৫ হাজার টাকা খরচ হয়।
শ্রমিকদের অভিযোগ, প্রতি বছর বাড়িভাড়া বাড়লেও বেতন অপরিবর্তিত থাকে। ফলে সংসার চালানো, রেশন, সন্তানের পড়াশোনার খরচ সামলানো ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, ন্যূনতম মাসিক বেতন ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা করা হোক। এক মহিলা শ্রমিক জানান, তাঁর মূল বেতন ১২ হাজার টাকা, ওভারটাইম করলে তা ১৪-১৫ হাজারে পৌঁছায়, যা পর্যাপ্ত নয়।
ওভারটাইম সংক্রান্ত বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন শ্রমিকরা। তাঁদের দাবি, ওভারটাইমের জন্য দ্বিগুণ পারিশ্রমিক দিতে হবে। বহু শ্রমিক পাঁচ-ছয় বছর ধরে টিভি উৎপাদন ইউনিটে কাজ করলেও তাঁদের বেতন এখনও ১২ হাজার টাকার আশেপাশেই রয়েছে বলে অভিযোগ।
বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে এবং পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন নিরাপত্তা জোরদার করেছে।
এদিকে জেলা শাসক মেধা রূপম জানান, শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই শিল্প ইউনিটগুলির সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে এবং কিছু নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওভারটাইমের জন্য দ্বিগুণ মজুরি দেওয়া হবে এবং সাপ্তাহিক ছুটি বাধ্যতামূলক করা হবে। যদি কোনও শ্রমিককে ছুটির দিনে কাজ করতে হয়, তবে তাকে দ্বিগুণ হারে পারিশ্রমিক দেওয়া হবে। এছাড়াও, নিয়ম অনুযায়ী সমস্ত শ্রমিককে বোনাস দেওয়া হবে, যা ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়বে।
তবে এই আশ্বাসের পরেও শ্রমিকরা তাঁদের মূল দাবি—উল্লেখযোগ্য বেতন বৃদ্ধি—থেকে সরে আসতে নারাজ। তাঁদের বক্তব্য, বেতন না বাড়লে ন্যূনতম জীবনযাত্রার মান বজায় রাখা অসম্ভব।



















