আগরতলা ১৩ এপ্রিল: ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (টিটিএএডিসি) নির্বাচনে এবারে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে ভোটারদের উপস্থিতি। প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট ৯ লক্ষ ৫১ হাজার ৬১৩ জন ভোটারের মধ্যে ৭ লক্ষ ৯৪ হাজার ৭৭৯ জন ভোট প্রদান করেছেন। এই নির্বাচনে মোট ভোটদানের হার দাঁড়িয়েছে ৮৩.৫২ শতাংশ। বেশ কয়েকটি নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক সহিংসতা ও উত্তেজনার খবরের মধ্যেই ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল নজিরবিহীন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পুরুষ ভোটার ছিলেন ৪ লক্ষ ৭১ হাজার ৬৬৩ জন এবং মহিলা ভোটার ৪ লক্ষ ৭৯ হাজার ৯৪৪ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ছিলেন ৬ জন। অন্যদিকে, ভোট প্রদান করেছেন ৩ লক্ষ ৯৪ হাজার ৯৭৯ জন পুরুষ, ৩ লক্ষ ৯৯ হাজার ৭৯৯ জন মহিলা এবং ১ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে অধিকাংশ আসনেই ৮০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। এর মধ্যে সর্বাধিক পূর্ব মুহুরীপুর-বুরাটলি (এসটি) কেন্দ্রে ৩৩৯৯৮ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। ওই কেন্দ্রে ভোটের হার ছিল ৮৯.৯১ শতাংশ। এছাড়াও ১৪ নম্বর বোধজংনগর-ওয়াকিনগর কেন্দ্রে ৮৭.৬৬ শতাংশ এবং ১৭ নম্বর পেকুয়ারজলা-জনমেজয় নগর কেন্দ্রে ৮৭.৬৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। বিপুল ভোটদানের তালিকায় আরও রয়েছে ২৮ নম্বর শিলাছড়ি-মনুবাংকুল (৮৭.৭২%), ২১ নম্বর মহারানি-চেলাগাং (৮৬.০১%), ২৫ নম্বর নুতনবাজার-মালবাসা (৮৫.৮৯%) এবং ১৫ নম্বর জিরানিয়া (৮৫.৭৭%) কেন্দ্র।
অন্যদিকে সর্বনিম্ন ভোট পড়েছে ১ নম্বর দামছড়া-জম্পুই (এসটি) কেন্দ্রে ৬৯.০৯ শতাংশ। ওই কেন্দ্রে ভোটদান করেছেন ৩৪০১৮ জন ভোটার। এছাড়া ৩ নম্বর দাসদা-কাঞ্চনপুর কেন্দ্রে ৭৯.৪৬ শতাংশ এবং ৯ নম্বর হলাহালি-আশারামবাড়ি কেন্দ্রে ৮০.৫৪ শতাংশ ভোট পড়েছে।
এছাড়াও, মাছমারা কেন্দ্রে ৮০.৯৮%, করমছড়া কেন্দ্রে ৮১.৩৬%, ছাওমানু কেন্দ্রে ৮২.৮৩%, মনু-ছৈলেংটা কেন্দ্রে ৮৩.৬২% এবং দামছড়া কেন্দ্রে ৮৩.০৫% ভোটদান হয়েছে, আমতলি-গোলাঘাটি কেন্দ্রে ৮৫.৫৬%, কিল্লা-বাগমা কেন্দ্রে ৮৪.৯১% এবং ২২ নম্বর কথালিয়া-মির্জা-রাজাপুর কেন্দ্রে ৮৪.৬৬% ভোট পড়েছে।
বেশিরভাগ কেন্দ্রেই ৮০ থেকে ৮৬ শতাংশের মধ্যে ভোট পড়েছে, যা সামগ্রিকভাবে নজিরবিহীন ভোটারদের অংশগ্রহণের চিত্র তুলে ধরে। নির্বাচন চলাকালীন একাধিক এলাকায় সংঘর্ষ, ভয় দেখানো এবং ভোটে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠে এসেছে। বিরোধী দল এবং বিভিন্ন পর্যবেক্ষক সংস্থা এই ঘটনাগুলির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তবে এসবের মাঝেও সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেন সাধারণ মানুষ। এতে ভোটারদের দৃঢ়তা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতি তাদের অঙ্গীকার স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।



















