ওয়াশিংটন, ১২ এপ্রিল (আইএএনএস): ইরানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের পরমাণু আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর “চূড়ান্ত ও সর্বোত্তম প্রস্তাব”-এর পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন উপরাষ্ট্রপতি জে. ডি. ভ্যান্স জানান, ইসলামাবাদে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার আলোচনার পরও কোনও সমঝোতা সম্ভব হয়নি।
ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা একটি খুবই সরল প্রস্তাব নিয়ে এসেছি, যা আমাদের চূড়ান্ত ও সেরা অফার। ইরান তা গ্রহণ করে কি না, সেটাই এখন দেখার।”
তিনি জানান, আলোচনার পুরো সময়জুড়ে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরাসরি এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন। “গত ২১ ঘণ্টায় আমরা একাধিকবার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলেছি,” বলেন ভ্যান্স।
ভ্যান্সের কথায়, ট্রাম্প আলোচক দলকে সৎ উদ্দেশ্যে আলোচনা চালানোর নির্দেশ দিলেও কিছু নির্দিষ্ট সীমারেখা স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন। “প্রেসিডেন্ট আমাদের বলেছিলেন, সৎভাবে চেষ্টা করতে হবে, কিন্তু শর্তগুলিও পরিষ্কার রাখতে হবে,” তিনি জানান।
তবে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সত্ত্বেও ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে মতপার্থক্য দূর করা যায়নি। “অনেক গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে, সেটাই ইতিবাচক দিক। কিন্তু আমরা কোনও চুক্তিতে পৌঁছতে পারিনি,” বলেন ভ্যান্স।
মার্কিন পক্ষের দাবি, ইরানকে দীর্ঘমেয়াদে পরমাণু অস্ত্র তৈরির পথে না যাওয়ার নিশ্চয়তা দিতে হবে। “তাদের কাছ থেকে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দরকার যে তারা কখনও পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না, বা সেই সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করবে না,” তিনি বলেন।
ভ্যান্স আরও জানান, ওয়াশিংটন অস্থায়ী নয়, স্থায়ী নিশ্চয়তা চায়। “শুধু এখন বা দু’বছরের জন্য নয়, দীর্ঘমেয়াদে তারা পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না—এমন মৌলিক অঙ্গীকার আমরা এখনও পাইনি,” তাঁর মন্তব্য।
তিনি আরও জানান, আলোচনার সময় জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হয়েছিল। যদিও নির্দিষ্ট মতভেদের বিষয়গুলি প্রকাশ করতে চাননি ভ্যান্স, তবু তিনি দাবি করেন, মার্কিন পক্ষ যথেষ্ট নমনীয়তা দেখিয়েছে।______



















