নয়াদিল্লি, ১২ এপ্রিল (আইএএনএস): দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ একটি ভুয়ো অনলাইন বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে চালানো সাইবার প্রতারণা চক্রের পর্দাফাঁস করেছে। এই ঘটনায় ৪৭.২০ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে রবিবার পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা কমিশনের ভিত্তিতে সংগৃহীত বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে প্রতারণার টাকা লেনদেন করত। তাদের কাছ থেকে ব্যাঙ্ক কিট, সিম কার্ড এবং অপরাধে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
ঘটনাটি দক্ষিণ-পশ্চিম জেলার সাইবার থানায় দায়ের হওয়া একটি ই-এফআইআর-এর ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এক ব্যক্তিকে ভুয়ো অনলাইন প্ল্যাটফর্মে শেয়ার, ইক্যুইটি এবং আইপিও-তে বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করা হয়।
তদন্তে ‘অরেঞ্জ হার্বস প্রাইভেট লিমিটেড’-এর নামে একটি কারেন্ট অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত হয়, যেখানে প্রতারণার ৩ লক্ষ টাকা জমা পড়েছিল। আরও তদন্তে জানা যায়, এই অ্যাকাউন্টটি অন্তত ১২টি সাইবার প্রতারণার অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত এবং এটি ‘লেয়ার-১’ অ্যাকাউন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হত।
এসি পি রমেশ চন্দর লাম্বার তত্ত্বাবধানে, ইন্সপেক্টর সতেন্দর পুনিয়া ও ইন্সপেক্টর সোহন লাল বিজারনিয়ার নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল হরিয়ানা, পঞ্জাব, চণ্ডীগড়সহ বিভিন্ন রাজ্যে অভিযান চালায়।
হরিয়ানার জিন্দের বাসিন্দা ৪৭ বছরের বিশাল চৌহানকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি কমিশনের বিনিময়ে নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, সিম কার্ড, ডেবিট কার্ড ও চেকবই অন্যদের হাতে তুলে দেন। এর জন্য তিনি ৫০ হাজার টাকা পেয়েছিলেন। তার কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়েছে।
পরবর্তীতে এই চক্রের মধ্যস্থতাকারী ঋত্বিক যাদবকে রাজস্থানের জয়পুর থেকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি বিশাল চৌহানের কাছ থেকে ব্যাঙ্ক কিট ও সিম কার্ড সংগ্রহ করে অন্যদের কাছে সরবরাহ করতেন।
এরপর উত্তরপ্রদেশের মেইনপুরীর বাসিন্দা ২২ বছরের প্রিয়াল প্রতাপ যাদবকে দিল্লির কিংসওয়ে ক্যাম্প এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকেও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়েছে, যা প্রতারণায় ব্যবহৃত হয়েছিল।
বর্তমানে বিশাল চৌহান ও ঋত্বিক যাদব বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, অভিযুক্তরা একটি বড় সংগঠিত চক্রের অংশ। তারা ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ কমিশনের বিনিময়ে ব্যক্তি ও সংস্থার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংগ্রহ করে সাইবার প্রতারণার টাকা ঘোরানোর কাজে ব্যবহার করত, যাতে সহজে ধরা না পড়ে।
পুলিশ জানিয়েছে, চক্রের অন্যান্য সদস্যদের চিহ্নিত ও গ্রেফতারের জন্য তদন্ত চলছে। দিল্লি-এনসিআরসহ বিভিন্ন জায়গায় নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
ঘটনার আরও বিস্তারিত জানার অপেক্ষা।



















