ম্যানিলা, ১০ এপ্রিল(আইএএনএস): মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে বিশ্বব্যাপী ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বেড়েছে এবং এর ফলে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলির প্রবৃদ্ধির ওপর নিম্নমুখী চাপ তৈরি হয়েছে। শুক্রবার প্রকাশিত এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)-এর এক নতুন প্রতিবেদনে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
ম্যানিলা থেকে প্রকাশিত ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক এপ্রিল ২০২৬’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি পরিস্থিতি দ্রুত স্থিতিশীল হয়, তবে উন্নয়নশীল এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২০২৬ ও ২০২৭ সালে ৫.১ শতাংশে নেমে আসতে পারে, যা ২০২৫ সালের ৫.৪ শতাংশের তুলনায় কম।
তবে, যদি মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ২০২৬ সালের তৃতীয় ত্রৈমাসিক পর্যন্ত অব্যাহত থাকে, তাহলে প্রবৃদ্ধি আরও কমে ২০২৬ সালে ৪.৭ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৪.৮ শতাংশে দাঁড়াতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।
এডিবির প্রধান অর্থনীতিবিদ আলবার্ট পার্ক জানান, জ্বালানির দাম বাড়লে উৎপাদন খরচ ও ভোক্তা মূল্য—উভয়ই বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি, গত বছরের তুলনায় রপ্তানি বৃদ্ধিও স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসবে, কারণ মার্কিন শুল্ক বৃদ্ধির আগে আগাম রপ্তানির প্রবণতা ছিল। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে মুদ্রাস্ফীতি আরও বাড়বে এবং সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্রুত স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে ২০২৬ সালে মুদ্রাস্ফীতি ৩.৬ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৩.৪ শতাংশ হতে পারে, যা ২০২৫ সালের ৩ শতাংশ থেকে বেশি। কিন্তু সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে ২০২৬ সালে মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে ৫.৬ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
এডিবি আরও জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে সরাসরি বাণিজ্যিক সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে কম হলেও, জ্বালানি বাজার, বাণিজ্য ও পরিবহন নেটওয়ার্ক এবং বৈশ্বিক আর্থিক অবস্থার মাধ্যমে এশিয়া-প্রশান্ত অঞ্চল পরোক্ষভাবে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত জ্বালানির দাম আরও বাড়িয়ে দেবে, যা মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি ও প্রবৃদ্ধি হ্রাসের কারণ হতে পারে। পাশাপাশি, বৈশ্বিক আর্থিক পরিস্থিতি হঠাৎ কঠোর হলে ঋণের খরচ বাড়বে। নতুন শুল্ক বৃদ্ধি ও বাণিজ্য নীতির অনিশ্চয়তাও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে বিঘ্নিত করতে পারে এবং বহির্মুখী চাহিদা কমিয়ে দিতে পারে।



















