ঢাকা, ৮ এপ্রিল (আইএএনএস): বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দেশের প্রাক্তন সংসদ স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী-র গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে “ভিত্তিহীন ও সাজানো মামলা” বলে অভিহিত করেছে।
মঙ্গলবার ভোরে ঢাকার ধানমন্ডিতে নিজ বাসভবন থেকে বাংলাদেশ পুলিশ চৌধুরীকে গ্রেফতার করে। তিনি দেশের প্রথম মহিলা স্পিকার ছিলেন।
বাংলাদেশের দৈনিক-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে রংপুরে আন্দোলনের সময় স্বর্ণশ্রমিক মুসলিম উদ্দিনের গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেফতারের সময় চৌধুরীর ওপর “শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন” চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আওয়ামী লীগ। দলটির বক্তব্য, “একজন দক্ষ, মার্জিত ও মানবিক নারী রাজনীতিবিদের সঙ্গে এ ধরনের অমানবিক আচরণ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও আইনের শাসনের পরিপন্থী এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।”
দলটি আরও জানায়, “রাষ্ট্রের সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত থেকে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির মর্যাদা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা একজন ব্যক্তির সঙ্গে এমন আচরণ শুধু লজ্জাজনকই নয়, বরং একটি নিন্দনীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”
আওয়ামী লীগ অভিযোগ করেছে, “মিথ্যা মামলা ও দমনমূলক এই পদক্ষেপগুলি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল।” এতে দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিপন্ন হচ্ছে এবং আইনের অপব্যবহার হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
দলটি চৌধুরীর অবিলম্বে ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য রাজনৈতিক নেতা ও সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা “মিথ্যা ও হয়রানিমূলক” মামলা প্রত্যাহার এবং সকল রাজনৈতিক বন্দির মুক্তির দাবিও জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, “বাংলাদেশকে ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে এর কোনও বিকল্প নেই।”
এর আগে গত মাসেও আওয়ামী লীগ দেশজুড়ে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের গণগ্রেফতার ও হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে। দলটির অভিযোগ, ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সরকার রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে বিরোধীদের দমন, নির্যাতন ও কণ্ঠরোধের চেষ্টা করছে।



















