নয়াদিল্লি, ৫ এপ্রিল(আইএএনএস) : আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু করতে নজরদারি আরও কড়া করেছে নির্বাচন কমিশন। রবিবার কমিশন জানায়, এখনও পর্যন্ত ৬৫০ কোটিরও বেশি টাকার অবৈধ নগদ, মদ, মাদক, মূল্যবান ধাতু ও বিভিন্ন ফ্রিবি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২৬ ফেব্রুয়ারি ইলেকট্রনিক সিজার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ইএসএমএস) চালু হওয়ার পর থেকে মোট বাজেয়াপ্তের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৫১.৫১ কোটি টাকা।
উল্লেখ্য, ১৫ মার্চ অসম, কেরল, পুদুচেরি, তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের সূচি ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এরপরই কঠোরভাবে মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট (এমসিসি) কার্যকর করা হয়।
নজরদারি জোরদার করতে ৫,১৭৩টিরও বেশি ফ্লাইং স্কোয়াড মোতায়েন করা হয়েছে, যারা ১০০ মিনিটের মধ্যে অভিযোগের জবাব দিতে সক্ষম। পাশাপাশি ৫,২০০-র বেশি স্ট্যাটিক সার্ভেইলেন্স টিম (এসএসটি) গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তল্লাশি ও নজরদারি চালাচ্ছে।
রাজ্যভিত্তিক হিসাবে পশ্চিমবঙ্গে সর্বাধিক ৩১৯ কোটি টাকার সামগ্রী বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এরপর রয়েছে তামিলনাড়ু (১৭০ কোটি), অসম (৯৭ কোটি), কেরল (৫৮ কোটি) এবং পুদুচেরি (৭ কোটি)।
বাজেয়াপ্ত সামগ্রীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে মাদক, যার মূল্য প্রায় ২৩0 কোটি টাকা। এছাড়া ফ্রিবি ও অন্যান্য প্রলোভনের সামগ্রীর পরিমাণ ২৩১.০১ কোটি টাকা।
মদের ক্ষেত্রেও বড়সড় অভিযান চালানো হয়েছে—২৯.৬৩ লক্ষ লিটার মদ (মূল্য প্রায় ৭৯.৩ কোটি টাকা) বাজেয়াপ্ত হয়েছে। নগদ উদ্ধার হয়েছে ৫৩.২ কোটি টাকা এবং মূল্যবান ধাতু বাজেয়াপ্ত হয়েছে প্রায় ৫৮ কোটি টাকার।
নির্বাচনকে হিংসামুক্ত, ভয়মুক্ত ও প্রলোভনমুক্ত রাখতে কমিশন বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যসচিব, ডিজিপি ও শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছে এবং কড়া নজরদারির নির্দেশ দিয়েছে।
তবে একইসঙ্গে কমিশন জানিয়েছে, এই নজরদারির ফলে সাধারণ মানুষের যেন কোনও অসুবিধা না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে। অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য জেলা পর্যায়ে গ্রিভ্যান্স কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এছাড়া, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ জানাতে নাগরিক ও রাজনৈতিক দলগুলিকে ‘সি-ভিজিল’ অ্যাপ ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।



















