ইম্ফল, ৫ এপ্রিল (আইএএনএস): মণিপুরে শান্তি ও সম্প্রীতি পুনরুদ্ধারই রাজ্য সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে রবিবার পুনরায় জানালেন মুখ্যমন্ত্রী ইউম্নাম খেমচন্দ সিং। একইসঙ্গে তিনি ঘোষণা করেন, সীমান্তবর্তী জিরিবাম জেলাকে একটি ‘মডেল জেলা’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে তিন দিনের সফরে জিরিবামে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এই জেলার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ইন্টার স্টেট ট্রাক টার্মিনাসের প্রস্তাবিত স্থানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো থাকায় এখানে পর্যটন প্রকল্প গড়ে তোলার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ২০২৩ সালের ৩ মে শুরু হওয়া জাতিগত অশান্তির পর জিরিবামই প্রথম জেলা, যেখানে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ একত্রিত হয়ে একসঙ্গে খাবার ভাগ করে নিয়েছেন। তিনি এটিকে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেন।
গত ৪ ফেব্রুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তাঁর দ্বিতীয় জিরিবাম সফর। তিনি জানান, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বন্ধন আরও মজবুত করা এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
সফরের অংশ হিসেবে জিরিবাম বন বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন একাধিক বিজেপি বিধায়ক ও শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিকরা।
শনিবার রাজ্য বিজেপি সভাপতি অধিকারিমায়ুম শারদা দেবী এবং নয়জন বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে সড়কপথে প্রায় ২২০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে ইম্ফল থেকে জিরিবামে পৌঁছন তিনি। প্রায় ছয় ঘণ্টার এই যাত্রাপথে কাংপোকপি অঞ্চলও পড়ে, যা কুকি-জো জনজাতি অধ্যুষিত এলাকা—ফলে সফরটির প্রতীকী গুরুত্বও রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের মে মাসে শুরু হওয়া জাতিগত সংঘর্ষের পর থেকে মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মানুষেরা সাধারণত একে অপরের অধ্যুষিত এলাকায় যাতায়াত এড়িয়ে চলেছেন।
শনিবার স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দেন, সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত বাস্তুচ্যুত মানুষদের (আইডিপি) পাশে রয়েছে রাজ্য সরকার। তাঁদের পুনর্বাসনের জন্য সরকার সর্বতোভাবে সাহায্য করার চেষ্টা করছে বলেও জানান তিনি।
বৈঠকে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ তাঁদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এক মেইতেই মহিলা বাড়ি ফেরার আশঙ্কার কথা জানান, অন্যদিকে এক হামার জনজাতির তরুণী প্রত্যন্ত এলাকায় সরকারি চাকরির সুযোগের অভাবের বিষয়টি তুলে ধরেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সব প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব না হলেও, আমি প্রত্যেককে যতটা সম্ভব সাহায্য করার চেষ্টা করব। সবাই নিজের বাড়িতে ফিরতে চান, আর সরকার সেই লক্ষ্যে কাজ করছে।”



















