নয়াদিল্লি, ৫ এপ্রিল(আইএএনএস): বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে ভারতের ইতিবাচক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করলেন নেপালের প্রথম বিলিয়নেয়ার বিনোদ কে চৌধুরী।
ঢাকায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চেম্বার বাংলাদেশ-এর আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে বৃহত্তর অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে আমরা আগ্রহী, কিন্তু ভারতের সহযোগিতা ছাড়া তা সম্ভব নয়।”
চৌধুরী জানান, নেপালের ক্রমবর্ধমান জলবিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা এই ক্ষেত্রে বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে। তাঁর মতে, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানির জন্য বিশেষ প্রকল্প গড়ে তোলা যেতে পারে, যেখানে ভারতের ভূমিকা হবে ট্রান্সমিশন বা সংযোগের সেতু হিসেবে।
তিনি আরও বলেন, ভৌগোলিক কারণে নেপাল স্থলবেষ্টিত দেশ হওয়ায় এই ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে ভারতের সহযোগিতা অপরিহার্য। সীমান্তপার শক্তি সহযোগিতায় ভারতের নীতির পরিবর্তন এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, বিনোদ চৌধুরী সিজি কর্প গ্লোবাল-এর কর্ণধার এবং ২০১৩ সালে প্রথমবার ফোর্বস-এর বিলিয়নেয়ার তালিকায় স্থান পান।
একই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য শুধু প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়। প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোই দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি।
তিনি আরও বলেন, দূরবর্তী দেশের তুলনায় প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা বেশি কার্যকর। আঞ্চলিক সংযোগ, শক্তি সহযোগিতা এবং বাণিজ্য একীভূতকরণের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা সৃষ্টি হতে পারে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারি বলেন, দুই দেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা অনেকটাই এক, ফলে পারস্পরিক সহযোগিতা স্বাভাবিক ও প্রয়োজনীয়। ব্যবসায়িক মহলের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধির অন্যতম পথ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করে বাংলাদেশ ও নেপাল নিজেদের অর্থনৈতিক গতিপথ নির্ধারণ করতে পারে, যেখানে বাণিজ্যই হবে মূল ভিত্তি।



















