অসুস্থ ছেলের চিকিৎসায় সাহায্যের আবেদন, দিশেহারা দিনমজুর বাবা

বিশালগড়, ২১ মার্চ : অসুস্থ ছেলের চোখের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহায্যের আবেদন জানালেন এক হতদরিদ্র বাবা। সদর মহকুমার অন্তর্গত কাঠালতলী গ্রাম পঞ্চায়েতের ৮ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সুনীল শীল পেশায় একজন দিনমজুর। বহু বছর আগেই তাঁর স্ত্রী মারা গেছেন। তারপর থেকে দুই কন্যা ও এক পুত্রকে নিয়ে অন্যের বাড়িতে কাজ করে কোনোভাবে দিন কাটাচ্ছেন তিনি।

জানা গেছে, সুনীল শীলের একমাত্র পুত্র পলাশ শীল ছোটবেলায় একটি দুর্ঘটনায় চোখে গুরুতর আঘাত পায়। এরপর থেকেই ধীরে ধীরে তার চোখের সমস্যা বাড়তে থাকে। ছেলের চিকিৎসার জন্য রাজ্যের বিভিন্ন স্থানের পাশাপাশি বহিরাজ্যের গৌহাটিতেও নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। তবে এত চেষ্টার পরও পলাশের একটি চোখে কোনো উন্নতি হয়নি।

বর্তমানে পলাশ শীলের বয়স ১৮ বছর এবং এখন তার দুই চোখই গুরুতরভাবে অসুস্থ। সম্প্রতি হাঁপানিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চক্ষু বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, এই চিকিৎসা ত্রিপুরায় সম্ভব নয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য বহিরাজ্যের কোনো বড় হাসপাতালে অপারেশন করাতে হবে, তবেই হয়তো তার দৃষ্টিশক্তি ফিরে আসতে পারে।

চিকিৎসকদের এই কথা শোনার পর কার্যত ভেঙে পড়েছেন সুনীল শীল। ইতিমধ্যেই ছেলের চিকিৎসায় সর্বস্ব খরচ করে ফেলেছেন তিনি। এখন আর বহিরাজ্যে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানোর মতো সামর্থ্য নেই তাঁর।

শনিবার সকালে সংবাদমাধ্যমের দ্বারস্থ হয়ে সুনীল শীল জানান, তিনি এলাকার বিভিন্ন নেতাদের কাছেও সাহায্যের আবেদন করেছিলেন, কিন্তু কোনো সাড়া পাননি। তাই তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন, যেন তাঁর একমাত্র সন্তানের চোখের দৃষ্টি ফিরিয়ে আনতে সরকারিভাবে সহায়তা করা হয়।

এখন দেখার বিষয়, অসহায় এই পরিবারের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন কতটা উদ্যোগী হয় এবং পলাশ শীলের চিকিৎসার জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

Leave a Reply