বিধানসভা ভোটের আগে কেরলে বিজেপির সর্বশক্তি প্রয়োগ, প্রচারে নামছেন মোদি-শাহ

তিরুবনন্তপুরম, ২০ মার্চ: ৯ এপ্রিলের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে কেরলে প্রচারের শেষ পর্বে সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপাতে চলেছে বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং একাধিক শীর্ষ নেতা ও মুখ্যমন্ত্রীকে নামিয়ে রাজ্যে জোরদার প্রচারের কৌশল নিয়েছে গেরুয়া শিবির।

দলীয় সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী মোদি কেরলের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি জেলায় দু’দফায় ঝটিকা সফর করবেন। সেখানে তিনি জনসভা করবেন এবং দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা করবেন। বিজেপির প্রচারের মূল লক্ষ্য থাকবে রাজনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ কাসারগড, পালাক্কাড়, তিরুবনন্তপুরম, কোল্লাম এবং ত্রিশূরের মতো অঞ্চল।

সাম্প্রতিক নির্বাচনী সাফল্য থেকে কেরলে নতুন করে উৎসাহ পাচ্ছে বিজেপি। বিশেষ করে ত্রিশূর লোকসভা কেন্দ্রে অভিনেতা-রাজনীতিক সুরেশ গোপীর ৭০ হাজারের বেশি ভোটে জয় দলকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। এর পরেই ডিসেম্বরের পুরভোটে তিরুবনন্তপুরম কর্পোরেশনের দখল নেওয়াও বিজেপির কাছে বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেরলের রাজনীতিতে যেখানে এতদিন দলটি প্রান্তিক অবস্থানে ছিল, সেখানে এই সাফল্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে পরিসংখ্যান পুরোপুরি একপাক্ষিক নয়। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কেরলে বিজেপির ভোটের হার ছিল ১৫.৬৪ শতাংশ। কিন্তু ২০২৫ সালের পুরভোটে তা সামান্য নেমে ১৪.৭১ শতাংশে দাঁড়ায়। তা সত্ত্বেও বিজেপি নেতৃত্ব আশাবাদী। তাদের দাবি, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ৯টি আসনে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসা প্রমাণ করে যে রাজ্যে দলের ভিত্তি ধীরে ধীরে শক্তিশালী হচ্ছে।

রাজ্য বিজেপি সভাপতি রাজীব চন্দ্রশেখরও আত্মবিশ্বাসী সুরে জানিয়েছেন, এ বার দল শুধু দীর্ঘদিনের নির্বাচনী অচলাবস্থা ভাঙবেই না, একাধিক আসনেও জয় পেতে পারে।

তবে কেরলে বিজেপির সামনে বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে। রাজ্যের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের, যেখানে মুসলিম ও খ্রিস্টান মিলিয়ে প্রায় ৪২ শতাংশ। ফলে এই ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব বিস্তার এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো বিজেপির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সব মিলিয়ে, কেরলে ধাপে ধাপে বাড়তে থাকা রাজনৈতিক জমি এ বার নির্বাচনী সাফল্যে বদলে ফেলতে মরিয়া বিজেপি। সেই লক্ষ্যেই ভোটের আগে রাজ্যে হাইভোল্টেজ প্রচারে নামছে দলের সর্বভারতীয় নেতৃত্ব।

Leave a Reply