পাকিস্তানে খোট লাখপত ও অ্যাটক শিবির ফের সক্রিয়, নার্কো-চক্রের মাধ্যমে তহবিল জোগাড়ে নজর খালিস্তানি গোষ্ঠীর

নয়াদিল্লি, ১২ মার্চ : পাকিস্তানে খালিস্তানি জঙ্গি নেটওয়ার্কের কার্যকলাপ ফের বাড়তে শুরু করেছে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, পাকিস্তানভিত্তিক খালিস্তানি গোষ্ঠীগুলি আগামী কয়েক মাসে বিপুল পরিমাণ মাদক ভারতে পাচারের চেষ্টা করতে পারে।

ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির তথ্য অনুযায়ী, আগে প্রায় নিষ্ক্রিয় হয়ে থাকা চারটি প্রশিক্ষণ শিবির হঠাৎ করেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এই শিবিরগুলিতে বর্তমানে প্রায় ৩০০ জনকে খালিস্তান আন্দোলনের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বলে এক আধিকারিক জানিয়েছেন।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এবং জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদের সহায়তায় খালিস্তানি নেটওয়ার্কে বহু নতুন সদস্যকে যুক্ত করা হয়েছে।

জানা গেছে, পাকিস্তানের খোট লাখপত এবং অ্যাটক-এ থাকা শিবিরগুলিতে মূলত মাদক পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে চকওয়াল ও গুজরানওয়ালা-র শিবিরগুলিতে অস্ত্র ব্যবহার, গোলাবারুদ এবং বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

গোয়েন্দাদের মতে, পাঞ্জাবে হামলা চালানোর জন্য ‘ডেথ স্কোয়াড’ তৈরির চেষ্টাও করছে খালিস্তানি গোষ্ঠীগুলি।

বর্তমানে এই গোষ্ঠীগুলির প্রধান লক্ষ্য মাদক পাচারের মাধ্যমে তহবিল জোগাড় করা। আইএসআই তাদের নির্দেশ দিয়েছে আপাতত অর্থ সংগ্রহের দিকেই বেশি গুরুত্ব দিতে। এজন্য নতুন নতুন রুট ব্যবহার করে মাদক ভারতে পাচারের পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, কানাডা ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলিতে খালিস্তানি কার্যকলাপের উপর কড়া নজরদারি বাড়ায় পাকিস্তানেই তাদের কার্যকলাপ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই দেশগুলি বিষয়টি নিয়ে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতেও সম্মত হয়েছে।

ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, খালিস্তান আন্দোলনের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক মূলত পাঁচজন নেতার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যাদের পাকিস্তান আশ্রয় দিয়েছে।

এই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন বব্বর খালসা ইন্টারন্যাশনাল-এর প্রধান ওয়াধাওয়া সিং বাব্বর, যিনি লাহোরের গুলবার্গ এলাকায় থাকেন এবং পাকিস্তানি প্রশাসনের সুরক্ষা পাচ্ছেন বলে অভিযোগ। আইএসআই তাকে প্রশিক্ষণ শিবিরগুলিতে কার্যকলাপ বাড়ানোর পাশাপাশি পাঞ্জাব ও তার আশপাশে উচ্চপ্রোফাইল হত্যাকাণ্ড ও জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা করতে বলেছে।

এই নেটওয়ার্কে আরেক সক্রিয় সদস্য হরবিন্দর সিং সান্ধু ওরফে রিন্দা, যিনি সাম্প্রতিক সময়ে বাব্বরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে খালিস্তানি জঙ্গি সংগঠনগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন নেতা হলেন গজিন্দর সিং (দল খালসার প্রতিষ্ঠাতা), লাখভির সিং রোড়ে (ইন্টারন্যাশনাল সিখ ফেডারেশনের প্রধান) এবং পরমজিৎ সিং পাঞ্জওয়ার (খালিস্তান কমান্ডো ফোর্সের প্রধান)। এর মধ্যে রোড়ের মৃত্যু ২০২৩ সালে এবং পাঞ্জওয়ারকে ২০২৩ সালের মে মাসে লাহোরে গুলি করে হত্যা করা হয়। গজিন্দর সিংয়ের মৃত্যুর খবর ২০২৪ সালে প্রকাশ্যে আসে।

প্রায় ছয় মাস আগে আইএসআই এই সমস্ত গোষ্ঠীকে একত্রে একটি ঐক্যবদ্ধ কমান্ডের অধীনে কাজ করার নির্দেশ দেয়, যাতে পারস্পরিক মতবিরোধ এড়িয়ে সমন্বিতভাবে অভিযান চালানো যায়।

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, বর্তমানে এই নেটওয়ার্কের মূল নেতৃত্বে রয়েছেন ওয়াধাওয়া সিং বাব্বর। ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলির মতে, বব্বর খালসা ইন্টারন্যাশনাল অন্যতম বিপজ্জনক সংগঠন এবং পাকিস্তান থেকেই তাদের কার্যকলাপ পরিচালিত হচ্ছে।

তদন্তকারীদের আশঙ্কা, সুযোগ পেলেই পাঞ্জাবে বিপুল পরিমাণ মাদক পাচারের চেষ্টা করবে এই নেটওয়ার্ক। এজন্য ড্রোন এবং পাচারকারীদের ব্যবহার করা হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলি।

Leave a Reply