চেন্নাই, ১২ মার্চ : পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে জ্বালানি সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটায় তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে চেন্নাইয়ের পরিবহণ ব্যবস্থায়। এলপিজি ও সিএনজি চালিত অটোরিকশাগুলির জ্বালানি ভরতে সমস্যায় পড়ছেন হাজার হাজার চালক, ফলে শহরের বিভিন্ন জায়গায় যাত্রীদের বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে।
অটোচালকদের অভিযোগ, গত কয়েক দিনে গ্যাস সরবরাহ অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। ফলে জ্বালানি ভরতে পাম্পে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
অটো ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার গ্যাসচালিত প্রায় ২৫ শতাংশ অটোরিকশা জ্বালানি ভরতে পারেনি। তামিলনাড়ু অটো থোজিলালারগাল সম্মেলনম-এর রাজ্য কার্যকরী সভাপতি এস. বালাসুব্রামানিয়াম বলেন, “গতকাল প্রায় ২৫ শতাংশ গ্যাসচালিত অটো জ্বালানি পায়নি। সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এই সংখ্যা আরও বাড়বে।”
চালকদের অভিযোগ, সরবরাহ সংকটের পাশাপাশি কিছু বেসরকারি পাম্পে অতিরিক্ত দাম নেওয়ার ঘটনাও বাড়ছে। সরকারি নির্ধারিত এলপিজির দাম কেজি প্রতি ৫৯.৪১ টাকা হলেও কিছু জায়গায় তা ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তেল সংস্থার পাম্পেও দাম বেড়ে ৬৪.৫১ টাকা প্রতি কেজি হয়েছে।
বালাসুব্রামানিয়ামের কথায়, “জ্বালানির খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া এড়ানো যাচ্ছে না। বাঁচতে গেলে সামান্য ভাড়া বাড়াতেই হচ্ছে।”
অনেক অটোচালক জানান, খরচ কমানোর জন্যই তারা গ্যাসচালিত অটো ব্যবহার শুরু করেছিলেন। কিন্তু এখন সিএনজি ও এলপিজি না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে পেট্রোলে চলতে হচ্ছে। এতে আয় কমে যাচ্ছে।
শহরের যাত্রীরাও বাড়তি ভাড়ার চাপ অনুভব করছেন। এক যাত্রী জানান, চেন্নাই সেন্ট্রাল থেকে এগমোর পর্যন্ত ভাড়া এখন আগের তুলনায় প্রায় ৪০ টাকা বেশি। আবার আইনাভারম থেকে কোয়েম্বেদু যাওয়ার ভাড়া ১৩০ টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ১৮০ টাকা হয়েছে।
পাম্পে অপেক্ষারত চালকদের মতে, এখন গ্যাস ভরতে প্রায় দু’ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগছে। মাদিপাক্কামের একটি স্টেশনে অপেক্ষা করছিলেন এক অটোচালক, তিনি বলেন, “ভিড় এড়াতে ভোরে আসি, তবু সরবরাহ অনিশ্চিত।”
পাম্প মালিকদেরও ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। লিটল মাউন্টের একটি এলপিজি ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার জানান, সরবরাহ না থাকায় তাদের পাঁচটি আউটলেট বন্ধ রাখতে হয়েছে। এতে প্রতিদিন প্রায় এক লক্ষ টাকার ক্ষতি হচ্ছে।
আরও একটি স্টেশনের ম্যানেজার জানিয়েছেন, বর্তমান মজুত শেষ হয়ে গেলে মাউন্ট রোডের এলপিজি স্টেশনও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হতে পারে।
ইউনিয়নের দাবি, চেন্নাইয়ে এলপিজি সরবরাহ কেন্দ্রের সংখ্যা খুবই কম হওয়ায় সমস্যা আরও বাড়ছে। শহরে প্রায় ৪০ হাজার এলপিজি চালিত এবং প্রায় ২০ হাজার সিএনজি চালিত অটো রয়েছে, কিন্তু এলপিজি সরবরাহের উপযুক্ত স্টেশনের সংখ্যা খুবই সীমিত।
নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী পেট্রোল ও ডিজেল ট্যাঙ্ক থেকে কমপক্ষে ৫০০ ফুট দূরে এলপিজি ট্যাঙ্ক বসাতে হয়। ফলে শহরে মাত্র প্রায় ১৩টি পাম্পে এলপিজি ট্যাঙ্ক স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউনিয়ন নেতারা।

