আগরতলা, ৭ মার্চ : নিখোঁজ এক কৃষককে ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে কৈলাসহরের পঞ্চমনগর এলাকায়। পুলিশের ভূমিকার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে গ্রামবাসীরা শনিবার সকাল সাড়ে ছয়টা থেকে ২০৮ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে সামিল হন। অবরোধের ফলে সড়কের দু’পাশে শতাধিক যানবাহন আটকে পড়ে এবং নিত্যযাত্রী ও পথচারীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। এলাকায় বর্তমানে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
জানা গেছে, কৈলাসহরের মাইলং এডিসি ভিলেজের অন্তর্গত পঞ্চমনগর গ্রামের বাসিন্দা রামমোহন দেববর্মা (৬০) গত ৩ মার্চ থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। পেশায় কৃষক রামমোহন দেববর্মার পরিবারে স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বড় ছেলে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত এবং ছোট ছেলে বেকার। ছেলে-মেয়ে সকলেই বিবাহিত। মেয়ের বিয়ে হয়েছে ফটিকরায়ের গঙ্গানগর এলাকায়।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৩ মার্চ দুপুরে রামমোহন দেববর্মা মেয়ের বাড়ি গঙ্গানগরে যান। পরে তিনি কুমারঘাটের জয়গুরু ফার্মেসিতে ওষুধ কিনতে গিয়েছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানান। কিন্তু এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। বহু খোঁজাখুঁজির পরও সন্ধান না মেলায় পরিবারের পক্ষ থেকে সেদিন রাতেই ফটিকরায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অভিযোগ, থানায় জানানো হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার জন্য তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এমনকি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পুলিশের অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগও উঠেছে। এই খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়তেই মাইলং এডিসি ভিলেজের বিভিন্ন এলাকার জনজাতি সম্প্রদায়ের মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়েন।
এরই প্রতিবাদে শনিবার সকাল থেকে পঞ্চমনগর এলাকায় ২০৮ নম্বর জাতীয় সড়কে শামিয়ানা টাঙিয়ে রাস্তার উপর বসে বিক্ষোভ শুরু করেন গ্রামবাসীরা। অবরোধে অধিকাংশই মহিলা জনজাতি অংশ নিয়েছেন।
অবরোধকারীদের দাবি, ঊনকোটি জেলার জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার অবরোধস্থলে এসে নিখোঁজ রামমোহন দেববর্মাকে দ্রুত খুঁজে বের করার আশ্বাস না দেওয়া পর্যন্ত অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে না।
এদিকে অবরোধকারীদের দাবি, তারা নিজেরাই কুমারঘাটের জয়গুরু ফার্মেসিতে গিয়ে ৩ মার্চের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করেছেন এবং সেখানে রামমোহন দেববর্মাকে দেখা যায়নি।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অবরোধস্থলে কৈলাসহর থানার বিশাল সংখ্যক পুলিশ, টিএসআর ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

