গুয়াহাটি, ২৭ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): অসমে ধোঁয়ামুক্ত রান্নাঘর গড়ে তোলার লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার আওতায় রাজ্যে ৫০ লক্ষাধিক তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সংযোগ প্রদান করা হয়েছে বলে শুক্রবার জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে করা এক পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের এই ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্পের ব্যাপক বাস্তবায়নের ফলে লক্ষ লক্ষ পরিবারের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এসেছে, বিশেষত মহিলারা নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন রান্নার জ্বালানির সুবিধা পাচ্ছেন।
তিনি এই সাফল্যের কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র নেতৃত্বকে দেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, অসম ধোঁয়ামুক্ত রান্নাঘর নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এক বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সহায়তায় প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার মাধ্যমে ৫০ লক্ষাধিক এলপিজি সংযোগ প্রদান করা হয়েছে, যা সুস্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্ন রান্নার সুযোগ নিশ্চিত করছে।”
মুখ্যমন্ত্রী জানান, এলপিজির ব্যাপক ব্যবহার জ্বালানি কাঠ ও গোবরের মতো প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে, যা ঘরোয়া বায়ুদূষণ ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকির অন্যতম কারণ। ধোঁয়ামুক্ত রান্নাঘর মহিলাদের ও শিশুদের স্বাস্থ্যের ওপর সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা বাস্তবায়নে অসম দেশের অন্যতম অগ্রগামী রাজ্য হিসেবে উঠে এসেছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক শাসন ব্যবস্থার প্রতিফলন হিসেবেই এই সাফল্যকে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে বনসম্পদের ওপর চাপ কমিয়ে পরিবেশ সংরক্ষণেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের পাশাপাশি রাজ্য সরকার সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শেষ মাইল পর্যন্ত পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও জোরদার করেছে, যাতে উপভোক্তারা শুধু সংযোগই না পান, নিয়মিতভাবে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহারও করেন।
তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন রান্নার জ্বালানির প্রাপ্যতা সরকারের বৃহত্তর উন্নয়ন ভাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা স্বাস্থ্য, মর্যাদা ও দরিদ্র মানুষের ক্ষমতায়নের ওপর জোর দেয়। গ্রামীণ ও আর্থিকভাবে দুর্বল অংশের জীবনমান উন্নয়ন এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক বৈষম্য কমাতে উজ্জ্বলা যোজনার মতো উদ্যোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
রাজ্যের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের সুফল যাতে প্রত্যেক পরিবারের কাছে পৌঁছায়, সে লক্ষ্যে কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ চালিয়ে যাবে অসম সরকার।

