নয়াদিল্লি, ২৭ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): জাতীয় রাজধানীতে বায়ুদূষণ নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত। শুক্রবারও দিল্লির বায়ুর গুণমান সূচক (একিউআই) ‘খারাপ’ শ্রেণিতে রয়ে গেছে। এদিন সকালটা ছিল ঠান্ডা ও কুয়াশাচ্ছন্ন, আকাশ পরিষ্কার থাকলেও হালকা বাতাস বইছিল। সকালে তাপমাত্রা ছিল প্রায় ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, তবে দিনের দিকে গরম বাড়তে শুরু করে।
সিপিসিবি- এর তথ্য অনুযায়ী, শহরের বিভিন্ন মনিটরিং স্টেশনে একিউআইয়ের মাত্রা ভিন্ন ছিল। আনন্দ বিহারে একিউআই ছিল ২৮০, নর্থ ক্যাম্পাসে ২৫৮, ওয়াজিরপুরে ২৩৮, জাহাঙ্গিরপুরিতে ২৩০, দ্বারকা সেক্টর-৮-এ ২২৮, মুন্ডকায় ২১৯, আর কে পুরমে ২১৮, বাওয়ানায় ২১৩, চাঁদনি চকে ২০৩, অশোক বিহারে ১৯২, নরেলায় ১৮৪ এবং সোনিয়া বিহারে ১৭৮। অধিকাংশ এলাকাই ‘মাঝারি’ থেকে ‘খারাপ’ শ্রেণিতে ছিল। তুলনামূলকভাবে ভালো একিউআই রেকর্ড হয়েছে ডিটিইউ (১৪৫), আইআইটি দিল্লি (১৪৭), মন্দির মার্গ (১৩৮) এবং পুসা (১৩৬) এলাকায়।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বিশেষ করে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভোগা বাসিন্দাদের সকালবেলায় বাইরে কম বেরোনোর পরামর্শ দিয়েছেন। কারণ ভোরের দিকে দূষণ ও কুয়াশার মাত্রা বেশি থাকে।
এদিকে শীতল সকালের পরও ফেব্রুয়ারিতে অস্বাভাবিক উষ্ণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে দিল্লিতে। দুপুরের তাপমাত্রা ক্রমশ বাড়ছে, ফলে আবহাওয়া অনেকটা এপ্রিলের শুরুর মতো মনে হচ্ছে। রোদের তীব্রতা বাড়ায় দুপুরের সময় বাইরে থাকা অস্বস্তিকর হয়ে উঠছে। যদিও সকাল ও সন্ধ্যায় এখনও হালকা ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ১২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সারাদিন হালকা বাতাস বইয়েছে, যা গরম থেকে সামান্য স্বস্তি দিয়েছে।
আইএমডি জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন দিল্লি-এনসিআর এলাকায় মূলত পরিষ্কার আকাশ থাকবে এবং তাপমাত্রায় বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৪ মার্চের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩১ থেকে ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫ থেকে ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে ঘোরাফেরা করবে।
আইএমডি আরও জানিয়েছে, দুটি দুর্বল পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ২৬-২৮ ফেব্রুয়ারি এবং আবার ২-৩ মার্চ পশ্চিম হিমালয় অঞ্চলে হালকা বৃষ্টি ও তুষারপাত ঘটাতে পারে। হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড এবং জম্মু ও কাশ্মীর এলাকায় মেঘলা আকাশের সম্ভাবনা রয়েছে এবং উচ্চ পার্বত্য এলাকায় হালকা বৃষ্টিপাত বা তুষারপাত হতে পারে।

