সীমান্তে পাল্টা অভিযানে ৫৫ পাকিস্তানি সেনা নিহতের দাবি আফগানিস্তানের, দখল দুই ঘাঁটি

কাবুল, ২৭ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে পাল্টা সামরিক অভিযানে অন্তত ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে আফগানিস্তান। শুক্রবার আফগান জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, অভিযানে দুটি সামরিক ঘাঁটি ও ১৯টি পোস্ট দখল করা হয়েছে।

সীমান্ত অঞ্চলে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই এই পাল্টা হামলা চালানো হয়। মন্ত্রকের দাবি, বৃহস্পতিবার রাতে পাকিস্তানের তরফে আফগান ভূখণ্ডে হামলায় নারী ও শিশু নিহত হওয়ার ঘটনার জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালিত হয়। ডুরান্ড রেখা বরাবর পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকের পাকিস্তানি সামরিক পোস্টগুলিকে লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়।

চার ঘণ্টার সংঘর্ষে ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে এবং কয়েকজনকে জীবিত আটক করা হয়েছে বলে আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি। আরও অনেকে পালিয়ে যায়। অভিযানে দুটি সামরিক ঘাঁটি ও ১৯টি পোস্ট ধ্বংস করা হয়েছে এবং চারটি অতিরিক্ত পোস্ট থেকে পাকিস্তানি সেনাদের পিছু হটতে বাধ্য করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, অভিযানের সময় বহু হালকা ও ভারী অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং সামরিক সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। একটি শত্রু ট্যাঙ্ক ধ্বংস এবং একটি বড় সামরিক পরিবহণ যান দখল করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এই সংঘর্ষে আফগানিস্তানেরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, আট জন আফগান সেনা নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন।
এদিকে আফগানিস্তানের নানগারহার প্রদেশে একটি শরণার্থী শিবিরে পাকিস্তানি বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৩ জন আফগান নাগরিক, যাঁদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছেন, আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
সম্প্রতি তালিবান পাকিস্তানের বিমান হামলার তীব্র সমালোচনা করে একে ‘লজ্জাজনক কাজ’ বলে অভিহিত করেছে এবং সামরিক জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ আল আরাবিয়া ইংরেজিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, “স্বাভাবিকভাবেই এর সামরিক জবাব হবে। তবে বিস্তারিত গোপনীয়। পাকিস্তানকে এই কাজের জবাব পেতেই হবে।

এর আগে ২২ ফেব্রুয়ারি আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক অভিযোগ করে, পাকিস্তানি সামরিক শাসন নানগারহার ও পাকতিকা প্রদেশের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় বিমান হামলা চালায়, যাতে একাধিক সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়। ইসলামাবাদের দাবি, তারা পাকিস্তানে হামলা চালানো জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকেই লক্ষ্য করে আঘাত হেনেছে।
মুজাহিদ দাবি করেন, নানগারহারে ২২ জনের একটি পরিবার হামলার শিকার হয়, যার মধ্যে ১৭ জন নিহত এবং পাঁচ জন আহত হন। একটি স্কুলে আঘাত হানায় এক শিশুও আহত হয় এবং একাধিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাঁর কথায়, “সেখানে কোনও সশস্ত্র ব্যক্তি ছিল না। সাধারণ নাগরিকরাই হতাহত হয়েছেন।”
পাশাপাশি পাকিস্তানের এই অভিযোগও খারিজ করে দেন তিনি যে, আফগান ভূখণ্ড প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে হামলার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, পাকিস্তানে কোনও হামলা হলেই প্রমাণ ছাড়াই আফগানিস্তানের ওপর দোষ চাপানো হয়। আমরা তা প্রত্যাখ্যান করছি। আফগান মাটি কাউকে আক্রমণের জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

Leave a Reply