আগরতলা, ২৫ ফেব্রুয়ারি:
রাজ্যে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে কেন্দ্রের সূর্য ঘর কর্মসূচি এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই ৮ মেগাওয়াটেরও বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হয়েছে, যা রাজ্যের শক্তি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। প্রাকৃতিক গ্যাসের ঘাটতির কারণে প্রচলিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির ওপর চাপ বাড়লেও, বাড়ির ছাদ, উঠোন কিংবা টিনের চালে বসানো সৌর প্যানেল এখন বিকল্প শক্তির নির্ভরযোগ্য উৎস হয়ে উঠছে।
ত্রিপুরা রাজ্য বিদ্যুৎ নিগম লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপক অধিকর্তা বিশ্বজিৎ বসু জানান, রাজ্যের মোট ২,৩৫০ জন বিদ্যুৎ গ্রাহক ইতিমধ্যে নিজেদের বাড়িতে সোলার প্যানেল স্থাপন করে প্রায় ৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছেন। এর মধ্যে আগরতলা শহরের ১ নম্বর সার্কেলেই সর্বাধিক ১,৩৮৯ জন গ্রাহক যুক্ত হয়েছেন। এছাড়া পশ্চিম জেলার ২ নম্বর সার্কেলে ১৪০ জন, গোমতিতে ১৮০ জন, দক্ষিণ জেলার বিলোনিয়া সার্কেলে ১৯০ জন, সিপাহীজলায় ১৪৫ জন, উত্তর জেলার ধর্মনগরে ৭২ জন, ধলাইয়ে ৬৮ জন, খোয়াইয়ে ৭৮ জন এবং ঊনকোটিতে ৮৮ জন গ্রাহক এই উদ্যোগে শামিল হয়েছেন।
তিনি জানান, মোট ২,০৫৩ জন গ্রাহক ইতিমধ্যে সরকারি ভর্তুকি পেয়েছেন, যার পরিমাণ ১৭ কোটি ২৭ লক্ষ ৮১ হাজার টাকা। অনেক পরিবার তাদের বিদ্যুৎ বিল শূন্যে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে, আবার কেউ কেউ অতিরিক্ত উৎপাদিত বিদ্যুৎ গ্রিডে বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন। গড় হিসাবে ১ কিলোওয়াটের একটি সৌর প্ল্যান্ট মাসে প্রায় ১০০ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে, যা একটি সাধারণ পরিবারের চাহিদা মেটাতে যথেষ্ট।
বিশ্বজিৎ বসু আরও জানান, ২০২৭ সালের মধ্যে ৫০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে এবং তা পূরণে দ্রুত গতিতে কাজ চলছে। বিভিন্ন বিদ্যুৎ সাব-ডিভিশনে বিশেষ শিবিরের মাধ্যমে নাম নথিভুক্তকরণ চলছে। পাশাপাশি আগরতলায় নিগমের কর্পোরেট কার্যালয়ের নিচতলায় একটি কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে, যেখানে প্রতিদিন প্রকল্প সংক্রান্ত তথ্য ও সরাসরি নিবন্ধনের সুবিধা মিলছে।
রাজ্যের বিদ্যুৎ গ্রাহকদের উদ্দেশ্যে তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিজেদের ছাদকে শক্তির উৎসে পরিণত করে সরকারি ভর্তুকির সুবিধা নেওয়া উচিত। অনলাইনে সরকারি পোর্টালের মাধ্যমে সহজেই আবেদন করা যায় এবং অনুমোদনের পর তালিকাভুক্ত সংস্থার মাধ্যমে স্থাপন, নেট মিটার সংযোগ ও যাচাই সম্পন্ন হলে ভর্তুকির অর্থ সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হয়।
রাজ্যের শক্তি উৎপাদনে এই সাফল্য এক নীরব পরিবর্তনের সূচনা করেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ নিগমের আশা, ভবিষ্যতে আরও বেশি মানুষ এই উদ্যোগে যুক্ত হলে প্রতিটি বাড়িই ক্ষুদ্র বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পরিণত হবে এবং রাজ্য শক্তিতে আরও স্বনির্ভর হয়ে উঠবে।

