‘কেরল’ বদলে ‘কেরলম’: কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে বিজেপির স্বাগত, বাংলার ক্ষেত্রে ‘দ্বৈত নীতি’র অভিযোগ কংগ্রেসের

নয়াদিল্লি, ২৫ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ‘কেরল’ রাজ্যের নাম বদলে ‘কেরলম’ করার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে। এর ফলে সংবিধান সংশোধনের পথ প্রশস্ত হল এবং নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের সূচনা হয়েছে। বিজেপি এই সিদ্ধান্তকে রাজ্যের সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত পরিচয়ের স্বীকৃতি হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে, অন্যদিকে কংগ্রেস ‘দ্বৈত নীতি’র অভিযোগ তুলে পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তনের দীর্ঘদিনের দাবি কেন ঝুলে রয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

বুধবার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র সৈয়দ শাহনওয়াজ হোসেন বলেন, “কেরলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল রাজ্যের নাম ‘কেরলম’ করা হোক। এখন সেই পরিবর্তন করা হয়েছে। বিধানসভায় অনুমোদনের পর কেরলের সরকারি নাম হবে ‘কেরলম’।”

মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার এই অনুমোদন আসে, যা কেরলের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের কয়েক মাস আগে রাজনৈতিক তাৎপর্য তৈরি করেছে। এর আগে কেরালা বিধানসভা ২০২৩ সালের আগস্ট ও ২০২৪ সালের জুনে সর্বসম্মতিক্রমে প্রস্তাব পাশ করে কেন্দ্রকে সংবিধান সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছিল। ‘কেরলম’ নামটি রাজ্যের নামের মালয়ালম উচ্চারণ।

তবে কেরলের প্রস্তাব এগোলেও, পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তন নিয়ে পুরনো বিতর্ক আবার সামনে এসেছে। উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেস মুখপাত্র সুরেন্দ্র রাজপুত কেন্দ্রের অবস্থানকে অসঙ্গত বলে কটাক্ষ করেন।

তিনি বলেন, “এটি বিজেপির দ্বৈত নীতির অংশ। নির্বাচনী কারণে কেরলের নাম ‘কেরলম’ করতে প্রস্তুত, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তন করছেন না কেন? গুরুতরভাবে বলছি, অমিত শাহ ও প্রধানমন্ত্রী মোদীকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ন্যায্য প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।”

পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তনের দাবি বহুদিনের। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু-র আমল থেকে শুরু করে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-র সময়েও একাধিক প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। “পশ্চিমবঙ্গ”-এর বদলে “পশ্চিম বঙ্গ”, “বঙ্গ” এবং সর্বশেষ ২০১৮ সালে “বাংলা” নামের প্রস্তাব দেওয়া হলেও এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রের অনুমোদন মেলেনি।

এদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার ছাড়পত্রের পর এখন সংবিধানগত প্রক্রিয়া শুরু হবে। রাষ্ট্রপতি একটি বিল কেরল বিধানসভায় মতামতের জন্য পাঠাবেন। বিধানসভা আনুষ্ঠানিকভাবে মত জানালে, সংবিধানের প্রথম তফসিল সংশোধনের জন্য সংসদে বিল আনা হবে।

উভয় কক্ষেই সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বিলটি পাশ হলে রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর তা ‘গেজেট অফ ইন্ডিয়া’-তে প্রকাশিত হবে। এরপর থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কেরলম’ নাম কার্যকর হবে।

Leave a Reply