কলকাতা, ২৫ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ১ মার্চ থেকে রাজ্যে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (সিএপিএফ) মোতায়েন শুরু হচ্ছে। বাহিনীর জন্য বরাদ্দ গাড়িগুলিতে জিপিএস ট্র্যাকার বসানো হবে, যাতে নির্বাচন কমিশন (ইসিআই) নিযুক্ত কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকরা প্রথম দিন থেকেই বাহিনীর চলাচল ও কার্যকর ব্যবহার নিয়মিত নজরদারি করতে পারেন।
ইসিআই ইতিমধ্যেই স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, ১ মার্চ প্রথম দফায় যে ২৪০ কোম্পানি সিএপিএফ মোতায়েন হবে—যা ভোটের দিন ঘোষণা ও মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট জারির আগেই—তাদের বসিয়ে রাখা যাবে না। প্রথম দিন থেকেই ‘এরিয়া ডমিনেশন’ এবং রাজ্যের ভৌগোলিক পরিস্থিতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার কাজে লাগাতে হবে।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)-র দপ্তরের এক সূত্র জানিয়েছে, কমিশনের নির্দেশ কার্যকর হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করতেই গাড়িগুলিতে জিপিএস বসানো হবে। কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকরা প্রতিদিন বাহিনীর ব্যবহার সংক্রান্ত রিপোর্ট কমিশনে পাঠাতে পারেন বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।
একই ব্যবস্থা ১০ মার্চ দ্বিতীয় দফায় মোতায়েন হওয়া আরও ২৪০ কোম্পানির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
সিইও দপ্তরের ওই সূত্রের দাবি, অতীতে রাজ্যে নির্বাচনের সময় বিপুল সংখ্যক সিএপিএফ মোতায়েন থাকলেও ভোটের দিনেও তাদের যথাযথ ব্যবহার না হওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। দায়িত্বকালীন সময়ে বাহিনীর কিছু সদস্যের ‘সাইটসিয়িং’-এ যাওয়ার অভিযোগও ছিল। সেই প্রেক্ষিতেই এ বার প্রথম দিন থেকে শেষ পর্যন্ত কড়া নজরদারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
প্রথম দফায় ১ মার্চ মোতায়েন হওয়া ২৪০ কোম্পানির মধ্যে থাকবে—সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স-এর ১১০ কোম্পানি, বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স-এর ৫৫ কোম্পানি, সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স-এর ২১ কোম্পানি, ইন্দো-তিব্বত বর্ডার পুলিশ-এর ২৭ কোম্পানি এবং সশস্ত্র সীমা বাল-এর ২৭ কোম্পানি।
দ্বিতীয় দফায় ১০ মার্চ মোতায়েন হবে আরও ২৪০ কোম্পানি—এর মধ্যে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী-এর ১২০, সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী-এর ৬৫, কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনী-এর ১৬, ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ-এর ২০ এবং সশস্ত্র সীমা বাল-এর ১৯ কোম্পানি থাকবে।
মোট ৪৮০ কোম্পানির ডি-ইনডাকশন বা প্রত্যাহারের সময়সূচি কমিশনের পরবর্তী বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী জানানো হবে।
______

