গুয়াহাটি, ২২ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস) : গুয়াহাটির লোকপ্রিয় গোপীনাথ বরদোলই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এর নতুন টার্মিনাল রবিবার সন্ধ্যা থেকে বাণিজ্যিকভাবে চালু হয়েছে। এর ফলে বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রী ধারণক্ষমতা বেড়ে দাঁড়াল ১ কোটি ৩১ লক্ষ (১৩.১ মিলিয়ন)। এর মাধ্যমে অসমের রাজধানী শহরটি ভারতের কৌশলগত উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার প্রধান বিমান-প্রবেশদ্বার হিসেবে আরও শক্তিশালী অবস্থান নিল।
পূর্ণাঙ্গ চালুর আগে চেক-ইন, ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং, নিরাপত্তা ও বিমান ঘোরানো (টার্নঅ্যারাউন্ড) প্রক্রিয়ায় ধাপে ধাপে লাইভ ট্রায়াল পরিচালিত হয়। গত ২০ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই টার্মিনালের উদ্বোধন করেছিলেন।
রবিবারের আনুষ্ঠানিক সূচনায় উপস্থিত ছিলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এবং আদানি বিমানবন্দর হোল্ডিংস লিমিটেড (এএএইচআইএল) ডিরেক্টর জিত আদানি। অনুষ্ঠানে প্রথম যাত্রীর হাতে প্রতীকী বোর্ডিং পাস তুলে দেওয়া হয় এবং মুম্বই থেকে আসা আকাসা এয়ার-এর একটি ফ্লাইট নতুন টার্মিনালে অবতরণ করে।
আগমনী প্রাঙ্গণে প্রদীপ প্রজ্বলন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে কারুশিল্পী, চা-বাগান শ্রমিক, ফ্রন্টলাইন কর্মী এবং সিআইএসএফ জওয়ানরা অংশ নেন।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, অ্যাডভান্টেজ অসম ২.০-তে ঘোষিত ৫০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার জন্য আমরা গৌতম আদানিকে ধন্যবাদ জানাই। নতুন টার্মিনাল চালু হওয়ার ফলে অসমের পর্যটনে বড় গতি আসবে। এটি রাজ্যের জন্য গেম-চেঞ্জার। নির্মাণকাজে অসমের সংস্কৃতিকে মর্যাদা দেওয়া হয়েছে, যা আমাদের গর্বিত করেছে।
জিত আদানি বলেন, এটি কেবল একটি বাণিজ্যিক মাইলফলক নয়, বরং অসম ও উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষের জন্য গর্বের মুহূর্ত। এই সাফল্য ভবিষ্যৎমুখী অবকাঠামো গঠনের প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন।
গত এক দশকে গুয়াহাটি ভারতের দ্রুততম বর্ধনশীল নন-মেট্রো বিমানবন্দরগুলির অন্যতম হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক বছরে যাত্রী সংখ্যা ৯ মিলিয়ন ছাড়িয়েছে এবং যাত্রী পরিবহনের নিরিখে এটি দেশের শীর্ষ ১০–১২ ব্যস্ততম বিমানবন্দরের মধ্যে রয়েছে। নতুন সম্প্রসারণের ফলে রুট বৃদ্ধি, বেশি ফ্রিকোয়েন্সি এবং আন্তর্জাতিক সংযোগ সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।
বর্তমানে বিমানবন্দরটি ২১টি দেশীয় ও তিনটি আন্তর্জাতিক গন্তব্য ব্যাংকক, পেরু ও সিঙ্গাপুর এর সঙ্গে যুক্ত এবং প্রতিদিন ১৩০টিরও বেশি বিমান চলাচল পরিচালনা করে। নতুন সক্ষমতা উত্তর-পূর্বকে মূল ভূখণ্ড ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে সংযুক্ত আঞ্চলিক হাব হিসেবে গুয়াহাটির গুরুত্ব আরও বাড়াবে।
ডিজিটাল সমন্বয়, ডিগি যাত্রা-সক্ষম প্রক্রিয়া, সমন্বিত দিকনির্দেশ ব্যবস্থা এবং কেন্দ্রীয় যোগাযোগ ব্যবস্থাও চালু হয়েছে। খুচরো ও খাদ্য পরিষেবা ধাপে ধাপে চালু করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ভারতীয় স্থপতি নুরু করিম-এর নকশায় নির্মিত টার্মিনালটি অসমের ‘কোপৌ ফুল’ (ফক্সটেল অর্কিড) থেকে অনুপ্রাণিত। নির্মাণে ১৪০ মেট্রিক টনেরও বেশি বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে। অসমের ভোলুকা বাঁশশিল্প এবং অরুণাচল প্রদেশের আপাতানি জনজাতির বাঁশ-নির্ভর স্থাপত্য ঐতিহ্যের প্রতিফলন এতে ফুটে উঠেছে।
নতুন টার্মিনালের নকশা ২০২৫ সালের আন্তর্জাতিক আর্কিটেকচার অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছে।
উল্লেখ্য, বিমানবন্দরটি পরিচালনা করছে এএএইচএল-এর সহযোগী সংস্থা গৌহাটি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট লিমিটেড (জিআইএ এল)। এএএইচআইএল তিরুবনন্তপুরম, মুম্বই, নবি মুম্বই, লখনউ, জয়পুর, আহমেদাবাদ ও মাঙ্গালুরু বিমানবন্দরও পরিচালনা করে।


















