গান্ধীনগর, ১৬ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): গুজরাট বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনেই উপাধ্যক্ষ পদে নির্বাচিত হলেন সুরাট পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক ও প্রাক্তন মন্ত্রী পূর্ণেশ মোদি।
তাঁর প্রার্থীপদ প্রস্তাব করেন বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা জিতু ভাগানী। অন্যদিকে, কংগ্রেস এই পদের জন্য প্রার্থী করে বিধায়ক শৈলেশ পরমার-কে। তাঁর নাম প্রস্তাব করেন কংগ্রেস বিধায়ক দিনেশ ঠাকোর।
বিধানসভায় কণ্ঠভোটে পূর্ণেশ মোদির পক্ষে আনা প্রস্তাব গৃহীত হয়। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বিজেপি স্পষ্ট ব্যবধানে জয়ী হয়। পরে বিধানসভার স্পিকার শঙ্কর চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণেশ মোদির নির্বাচনের ঘোষণা করেন।
এরপর গুজরাটের সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী ঋষিকেশ পটেল তাঁকে বিরোধী দলনেতার পাশের আসনে নিয়ে যান। শোকপ্রস্তাব গ্রহণের পরই উপাধ্যক্ষ নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
আলোচনায় অংশ নিয়ে কংগ্রেস বিধায়ক শৈলেশ পরমার বলেন, সংসদীয় রীতি অনুযায়ী উপাধ্যক্ষ পদ বিরোধী দলের সদস্যকে দেওয়া উচিত। তাঁর অভিযোগ, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বিজেপি প্রচলিত রীতি ভেঙে এই পদ দখল করেছে। পাশাপাশি, পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটিসহ গুরুত্বপূর্ণ কমিটিগুলিতে বিরোধীদের পর্যাপ্ত প্রতিনিধিত্ব না থাকার অভিযোগও তোলেন তিনি।
নির্বাচিত হওয়ার পর পূর্ণেশ মোদি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপি সভাপতি নিতীন নবীন, বিজেপি সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) বি. এল. সন্তোষ, গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র পটেল এবং রাজ্য বিজেপি সভাপতি জগদীশ বিশ্বকর্মা-র প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি বলেন, “দল আমার উপর আস্থা রেখে এই সাংবিধানিক পদে লড়ার সুযোগ দিয়েছে।” ঘোষণার পর ট্রেজারি বেঞ্চের সদস্যরা তাঁর সমর্থনে স্লোগান তোলেন।
এদিকে, আম আদমি পার্টি (আপ) এই নির্বাচনে বিজেপি বা কংগ্রেস— কোনও পক্ষকেই সমর্থন করেনি। দেদিয়াপাড়া থেকে আপ বিধায়ক চৈতর বাসাভা জানান, ফলাফল আগেই স্পষ্ট ছিল এবং কংগ্রেসের সম্ভাব্য ক্রস-ভোটিংয়ের প্রভাব এড়াতেই তাঁরা ভোটপ্রক্রিয়ায় অংশ নেননি।
এর আগে সোমবার অধিবেশনের শুরুতে রাজ্যপাল আচার্য দেবব্রত প্রথামাফিক ভাষণ দেন। তবে তাঁর ভাষণ চলাকালীন কংগ্রেস বিধায়করা কৃষিঋণ মকুব, সরকারি দফতরে আউটসোর্সিং বন্ধ, স্থায়ী নিয়োগ এবং অবৈধ মদ ও মাদক বিক্রি রোধের দাবিতে স্লোগান তোলেন।

