চেন্নাই, ১৪ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস) : তামিলনাড়ুতে পুলিশের মহানির্দেশক(ডিজিপি) ও হেড অব পুলিশ ফোর্স (এইচওপিএফ)-র স্থায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়া আবারও শুরু হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি নির্দেশ দিয়েছে, তিন সপ্তাহের মধ্যে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
চেন্নাইয়ের আবেদনকারী কিশোর কে. স্বামীর দায়ের করা আদালত অবমাননার মামলার নিষ্পত্তি করতে গিয়ে শীর্ষ আদালত এই নির্দেশ দেয়। তাঁর অভিযোগ ছিল, নিয়মিত ডিজিপি নিয়োগে আদালতের নির্ধারিত নির্দেশিকা মানেনি রাজ্য সরকার। আদালতের নির্দেশ মেনে শীর্ষ প্রশাসনিক মহলে ফের বৈঠক শুরু হয়েছে। যোগ্য ডিজিপি-স্তরের আধিকারিকদের একটি নতুন প্যানেল চূড়ান্ত করে তা ইউপিএসসি-র কাছে পাঠানো হবে।
প্রকাশ সিং মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্ধারিত কাঠামো অনুযায়ী, রাজ্য সরকারকে যোগ্য আধিকারিকদের একটি প্যানেল ইউপিএসসি-র কাছে পাঠাতে হয়। সেখান থেকে তিনজনের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করা হয়। ওই তালিকা থেকে একজনকে ডিজিপি/এইচওপিএফ হিসেবে নিয়োগ করে রাজ্য, এবং তাঁকে অবসরের তারিখ নির্বিশেষে ন্যূনতম দু’বছরের মেয়াদ দিতে হয়।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, এক সপ্তাহের মধ্যে রাজ্য সরকার তাদের প্যানেল পাঠাবে। এরপর দুই সপ্তাহের মধ্যে ইউপিএসসি চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করবে।
জ্যেষ্ঠতার নিরিখে সীমা আগরওয়াল, রাজীব কুমার এবং সন্দীপ রাই রাঠোর শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে তামিলনাড়ু যোগ্য আধিকারিকদের তালিকা পাঠালে ইউপিএসসি এই তিনজনের নাম শর্টলিস্ট করেছিল। তবে সেই সময় রাজ্য সরকার কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি এবং জি. বেঙ্কটরামনকে ভারপ্রাপ্ত ডিজিপি হিসেবে বহাল রাখে।
২২ অক্টোবর আইনমন্ত্রী এস. রঘুপতি প্রকাশ্যে জানান, ইউপিএসসি সুপারিশ করা তিনটি নাম রাজ্যের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর অভিযোগ ছিল, এমপ্যানেলমেন্ট প্রক্রিয়ায় কেন্দ্র সরকার তামিলনাড়ুর মতামত উপেক্ষা করেছে।
রাজ্যে অন্যান্য জ্যেষ্ঠ ডিজিপি-স্তরের আধিকারিকদের মধ্যেও কে. বান্নিয়াপেরুমাল, মহেশ কুমার আগরওয়াল, ভিনীত দেব ওয়াঙ্কহেড়ে, সঞ্জয় মাথুর, এস. ডেভিডসন দেবাসির্ভাথম, সন্দীপ মিত্তল এবং বালা নাগা দেবীর নাম রয়েছে।
সূত্রের দাবি, শীর্ষ তিন আধিকারিকের যোগ্যতার ক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত কোনও পরিবর্তন হয়নি। সাধারণত ন্যূনতম ছয় মাসের অবশিষ্ট পরিষেবা প্রয়োজন হলেও, তা শূন্যপদের সৃষ্টির তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে গণনা করা হয়। ফলে কয়েকজন আধিকারিক এখনও বিবেচনায় থাকতে পারেন।
রাজ্য সরকার ইউপিএসসি-র সিঙ্গল উইন্ডো সিস্টেম মেনেই প্যানেল চূড়ান্ত করে পাঠাবে বলে প্রশাসনিক মহল সূত্রে জানা গিয়েছে।

