আগরতলা, ১৩ ফেব্রুয়ারি: একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জনগণের রায়ে বাংলাদেশে সরকার গঠন করেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট। প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, জোট মোট ২১০টি আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠনের পথে এগিয়েছে। নতুন সরকার প্রতিষ্ঠার পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক, বিশেষ করে ত্রিপুরার সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় হবে—এমনটাই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন রাজ্যের ব্যবসায়ী মহল।
দীর্ঘদিন ধরে ত্রিপুরা ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্যিক আদান-প্রদান রাজ্যের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যে কিছুটা স্থবিরতা দেখা দেয়। এর প্রভাব পড়ে সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলির ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী এবং শ্রমজীবী মানুষের উপর।
বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আগরতলার ব্যবসায়ী বিমল রায়। তিনি বলেন, বাংলাদেশে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় আমরা আশাবাদী। নিশ্চিন্তপুর থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে সংযোগকারী রেলপথ দ্রুত চালু হোক এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনরায় মসৃণ হোক—এটাই প্রত্যাশা।
তিনি আরও জানান, বাণিজ্য কার্যত বন্ধ থাকায় দুদেশের বহু শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। ব্যবসা স্বাভাবিক হলে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগও পুনরায় সৃষ্টি হবে বলে তিনি মনে করেন।
অন্যদিকে, আখাউড়া স্থলবন্দর-এর ব্যবসায়ী প্রাণতোষ সাহা জানান, তিনি এই স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে সিমেন্ট রপ্তানি করেন। তিনি বলেন, গত কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশে অস্থিরতার কারণে ব্যবসায় ভাটা পড়েছিল। তবে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠার পর পরিস্থিতি স্থিতিশীল হবে এবং ত্রিপুরার সঙ্গে পুনরায় স্বাভাবিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে উঠবে বলে তিনি আশাবাদী।
উল্লেখ্য, ত্রিপুরা ও বাংলাদেশের মধ্যে স্থলবন্দরের মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানি দীর্ঘদিন ধরেই চলমান। সীমান্তবর্তী অঞ্চলের অর্থনীতি অনেকাংশে এই বাণিজ্যের উপর নির্ভরশীল। ফলে বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরলে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক নতুন গতি পাবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। বর্তমানে ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, দুই দেশের সরকার পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বাণিজ্যিক প্রক্রিয়া সহজতর করবে এবং সীমান্ত বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
—————-

