নয়াদিল্লি, ১৩ ফেব্রুয়ারি(আইএএনএস) : লোকসভায় বিরোধীদলের নেতা রাহুল গান্ধী শুক্রবার দেশব্যাপী কয়েকটি কৃষক ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে পার্লামেন্ট হাউসে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে কৃষক ইউনিয়ন প্রতিনিধিরা ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তির তীব্র বিরোধিতা জানিয়ে কৃষকদের জীবন-জীবিকা, বিশেষত ভুট্টা, সয়াবিন, তুলা, ফল এবং বাদামের চাষিদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
নেতারা কংগ্রেস নেতা গান্ধীকে জানান, এই চুক্তি কৃষি আমদানি বাড়ানোর পথ খুলে দিতে পারে, যা দেশের কৃষক ও উৎপাদকদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। গান্ধীও এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন এবং সতর্ক করেন, চুক্তির কারণে অন্যান্য ফসলও শীঘ্রই প্রভাবিত হতে পারে। আলোচনায় একটি বৃহৎ জাতীয় আন্দোলন গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরা হয়, যা কৃষক ও কৃষি শ্রমিকদের জীবন-জীবিকা সুরক্ষিত রাখতে সহায়ক হবে।
সাক্ষাৎকালে উপস্থিত কৃষক নেতাদের মধ্যে ছিলেন, সুখপাল এস খয়রা, রঞ্জিত এস সান্ধু, আইনজীবি অশোক বলহারা, পি.টি. জন, বলদেব, আর. নন্দকুমার, অমরজিৎ এস. মোহরি, অখিলেশ শুক্লা, কেদার সিরোহি, কিরণজিৎ এস. সান্ধু, গুরপ্রীত এস. সঙ্ঘ, গুরমনীত এস. মাঙ্গত, হামিদ মালিক, তেজভীর সিং, ধরমবীর গোয়াত, ঈশ্বর সিং নাইন, এবং সাতবীর খাতানা।
গান্ধী বৃহস্পতিবার জানান, কোনো এফআইআর, দণ্ডনীয় মামলা বা প্রিভিলেজ মোশন তাকে কৃষকের অধিকার রক্ষার লড়াই থেকে বিরত রাখতে পারবে না।
একটি ভিডিও পোস্টে তিনি ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, এটি ভারতীয় কৃষকদের জন্য মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। গান্ধী অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারতীয় কৃষি বাজার বিদেশি খেলোয়াড়দের জন্য খুলেছেন, যা দেশীয় উৎপাদকদের ক্ষতিতে হয়েছে।
তিনি বলেন, আমি সংসদে সত্য কথা বলেছি। যদি সত্য পছন্দ না হয়, তা অন্য বিষয়। দেশ সত্য বোঝে। যা ইচ্ছে করুন। এফআইআর হোক, মামলা রুজু হোক বা প্রিভিলেজ মোশন আনা হোক। আমি এবং পুরো দল কৃষকদের সঙ্গে আছি।
গান্ধী আরও বলেন, যে কোনো বাণিজ্য চুক্তি যা কৃষকদের জীবন-জীবিকাকে হুমকির মুখে ফেলে বা দেশের খাদ্য নিরাপত্তাকে দুর্বল করে, তা কৃষকবিরোধী। তিনি সতর্ক করেন, ভুট্টা, সয়াবিন, তুলা এবং ফলের চাষিরা প্রথমে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং সরকার শেষ পর্যন্ত পুরো কৃষি খাত বিদেশি ও কর্পোরেট স্বার্থের জন্য উন্মুক্ত করবে।

