ভিবি-জি রাম জি আইন বাস্তবায়ন : গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও জীবিকা সুরক্ষায় নতুন দিশা

নয়াদিল্লি, ১০ ফেব্রুয়ারি : গ্রামীণ ভারতের কর্মসংস্থান ও জীবিকা সুরক্ষা আরও শক্তিশালী করতে কেন্দ্র সরকার চালু করেছে বিকশিত ভারত–গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ) আইন, ২০২৫। এই আইনের আওতায় প্রত্যেক গ্রামীণ পরিবার, যাদের প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যরা অদক্ষ শারীরিক শ্রমে কাজ করতে ইচ্ছুক, তারা এক অর্থবছরে ন্যূনতম ১২৫ দিনের নিশ্চিত মজুরি ভিত্তিক কর্মসংস্থান পাওয়ার আইনি অধিকার পাবে।

সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, মহাত্মা গান্ধী নরেগা প্রকল্পে যেখানে আগে ১০০ দিনের কাজের নিশ্চয়তা ছিল, সেখানে নতুন আইনে সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ১২৫ দিনে উন্নীত করা হয়েছে। কৃষকসহ সব গ্রামীণ পরিবারই এই সুবিধার আওতাভুক্ত। এছাড়াও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ না দিলে শ্রমিকদের বাধ্যতামূলক বেকার ভাতা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। ফলে কর্মসংস্থান ও জীবিকা উভয়ই আইনগত সুরক্ষা পাচ্ছে।

ভিবি-জি রাম জি আইন শুধুমাত্র একটি কর্মসংস্থান প্রকল্প নয়, বরং এটি গ্রামীণ উন্নয়নের জন্য একটি সমন্বিত কাঠামো। এই আইনের অধীনে চারটি মূল ক্ষেত্রকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে জল সুরক্ষা, মৌলিক গ্রামীণ পরিকাঠামো, জীবিকাভিত্তিক কর্মকাণ্ড এবং চরম আবহাওয়ার প্রভাব মোকাবিলার কাজ। এই ক্ষেত্রগুলির অধীনে গৃহীত বহু প্রকল্প সরাসরি কৃষি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে এবং কৃষকদের সহায়তা করে।

আইনে কৃষকদের জন্য শ্রমের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বপন ও ফসল কাটার মরশুমে শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যাতে কৃষিকাজ ব্যাহত না হয়, সে জন্য রাজ্যগুলিকে বছরে সর্বোচ্চ ৬০ দিন পর্যন্ত কর্মসূচির কাজ স্থগিত রাখার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে কৃষিকাজে প্রয়োজনীয় শ্রম সহজলভ্য হবে, যা কৃষকদের জন্য বড় স্বস্তি বলে মনে করা হচ্ছে।

জল সুরক্ষা এই আইনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। পুকুর, চেক ড্যাম, ফার্ম পন্ড, খাল, ভূগর্ভস্থ জল রিচার্জ কাঠামো এবং মাইক্রো-সেচ ব্যবস্থার মতো প্রকল্পে জোর দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সেচের পরিধি বাড়বে, অনিয়মিত বৃষ্টির উপর নির্ভরতা কমবে এবং ফসলের স্থায়িত্ব বৃদ্ধি পাবে।

ফসল উৎপাদনের পরবর্তী ধাপগুলিকেও আইনে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য খামার স্তরে গুদাম, ওয়্যারহাউস, গ্রামীণ হাট ও কোল্ড স্টোরেজ পরিকাঠামো নির্মাণের কাজ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে কৃষকরা পণ্য নিরাপদে সংরক্ষণ করতে পারবেন, জোরপূর্বক কম দামে বিক্রি এড়াতে পারবেন এবং ন্যায্য বাজারদর পেতে সহায়তা পাবেন।

এছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ, বাঁধ নির্মাণ, জল সংরক্ষণ, দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র এবং দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্গঠনের কাজ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে একদিকে গ্রামীণ পরিকাঠামোর স্থিতিস্থাপকতা বাড়বে, অন্যদিকে সংকটকালে কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে।

নতুন আইনে কৃষিভিত্তিক বহুমুখী জীবিকাকেও উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। পশুপালন, মৎস্যচাষ, ভার্মি-কম্পোস্টিং, নার্সারি, উদ্যানপালন এবং মূল্য সংযোজনমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কৃষকরা একাধিক উৎস থেকে আয় বাড়াতে পারবেন। এর ফলে গ্রামাঞ্চলে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং বাধ্যতামূলক অভিবাসন কমবে।

সরকার জানিয়েছে, কেন্দ্র সরকার কর্তৃক ভিবি-জি রাম জি আইন কার্যকর হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি তাদের নিজস্ব প্রকল্প বিজ্ঞপ্তি জারি করে বাস্তবায়ন শুরু করবে। আজ লোকসভায় গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী কমলেশ পাসওয়ান লিখিত উত্তরে এই তথ্য জানিয়েছেন।

Leave a Reply