ইটানগর, ৫ ফেব্রুয়ারি: গত এক দশকে অরুণাচল প্রদেশসহ সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারতে যে অভাবনীয় পরিবর্তন এসেছে, তার মূল কারণ হিসেবে কেন্দ্রীয় সরকারের ধারাবাহিক সহায়তার কথা তুলে ধরলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় রাজ্যপালের ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর দীর্ঘদিন ধরে উত্তর-পূর্বাঞ্চল অবহেলিত ছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সেই ‘দশকের পর দশক ধরে চলা অবহেলা’ দূর করতে সচেতনভাবে কাজ করেছেন। তাঁর মতে, উত্তর-পূর্ব ভারতের সামগ্রিক অগ্রগতি ‘বিকশিত ভারত @২০৪৭’ লক্ষ্যের অংশ হিসেবেই ঐতিহাসিক বৈষম্য ঘোচানোর প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
রাজ্যপালের ভাষণে উল্লিখিত সাফল্যগুলির প্রসঙ্গ টেনে পেমা খান্ডু বলেন, অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, মানবসম্পদ গঠন, শিক্ষা, যুব ক্ষমতায়ন, গ্রামীণ অর্থনীতি, কারুশিল্পীদের জীবিকা এবং জলবিদ্যুৎ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় আগের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা নিয়মিত রাজ্য সফর করছেন এবং বিভিন্ন প্রকল্পের অনুমোদন দ্রুত দেওয়া হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, মুখ্যমন্ত্রীর সমন্বিত সড়ক উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় ৩,০০০ কোটিরও বেশি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি ভাইব্র্যান্ট ভিলেজ প্রোগ্রামের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ১,০০০ কোটি টাকা। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সীমান্ত এলাকার অর্থনীতি মজবুত হয়েছে, লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল পর্যন্ত পর্যটনের প্রসার ঘটেছে, স্থানীয় কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে এবং গ্রাম থেকে শহরে মানুষের স্থানান্তর কমেছে।
তিনি হল্লঙ্গিতে ডনি পোলো বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালের কথাও উল্লেখ করেন, যা উড়ান প্রকল্পের অধীনে সেরা বিমানবন্দরের স্বীকৃতি পেয়েছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সংস্কার, যুবসমাজের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি, ইতিমধ্যেই গড়ে ওঠা ২৩৭টি স্টার্টআপ এবং জনসংখ্যাগত সুবিধাকে কাজে লাগাতে উৎপাদন শিল্পের বিকাশের কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।
পর্যটনকে রাজ্যের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে বর্ণনা করে পেমা খান্ডু বিধায়কদের এই খাতের উন্নয়নে সহযোগিতার আহ্বান জানান। পাশাপাশি জলবিদ্যুৎ নীতিতে সংশোধনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, যাতে প্রকল্প-প্রভাবিত এলাকাগুলির মানুষ আরও বেশি উপকৃত হন।
তিনি ‘ক্যাবিনেট আপ কি দ্বার’ উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং জানান, নীতিনির্ধারণ আরও কার্যকর করতে বিধায়কদের জন্য শীঘ্রই একটি বিশেষ কর্মশালার আয়োজন করা হবে।
উল্লেখ্য, ধন্যবাদ প্রস্তাবটি বিজেপি বিধায়ক মহেশ চাই উত্থাপন করেন এবং হাগে আপা তা সমর্থন করেন। কণ্ঠভোটে প্রস্তাবটি গৃহীত হওয়ার পর বিধানসভার স্পিকার তেসাম পংটে অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতবি ঘোষণা করেন।

