নয়াদিল্লি, ৫ ফেব্রুয়ারি : নির্বাচন কমিশন (ইসিআই) আজ অসম, কেরল, পুদুচেরি, তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের জন্য নিযুক্ত হতে চলা কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। সাধারণ, পুলিশ ও ব্যয় সংক্রান্ত পর্যবেক্ষকদের জন্য এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মোট ১,৪৪৪ জন আধিকারিককে এই ব্রিফিংয়ের জন্য ডাকা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন ৭১৪ জন সাধারণ পর্যবেক্ষক, ২৩৩ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক এবং ৪৯৭ জন ব্যয় পর্যবেক্ষক। ব্রিফিং বৈঠকগুলি দুই দিন ধরে অর্থাৎ ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি নয়াদিল্লির ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডেমোক্র্যাসি অ্যান্ড ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট-এ তিনটি পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার, তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার ড. সুখবীর সিং সান্ধু ও ড. বিবেক যোশি।
পর্যবেক্ষকদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বলেন, তাঁদের নির্বাচন কমিশনের “আলোকবর্তিকা” হিসেবে কাজ করার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পর্যবেক্ষকদের দায়িত্ব হলো অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করা। তিনি আরও জানান, ৮২৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে তাঁদের উপস্থিতি সমগ্র নির্বাচনী ব্যবস্থাকে আরও সক্রিয় ও শক্তিশালী করবে।
নির্বাচন কমিশনার ড. এস এস সান্ধু বলেন, পর্যবেক্ষকদের মাঠপর্যায়ের নির্বাচনী আধিকারিকদের জন্য বন্ধু, দার্শনিক ও পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করতে হবে। তাঁদের আগমন যেন ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয় এবং তাঁরা সর্বদা সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য থাকেন, তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভোটারদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি হয় এবং পক্ষপাতিত্বের কোনও ধারণা না তৈরি হয়।
নির্বাচন কমিশনার ড. বিবেক যোশি বলেন, নির্বাচন কমিশনের সমস্ত নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে এবং যথাযথভাবে কার্যকর হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা পর্যবেক্ষকদের প্রধান দায়িত্ব। তিনি নিরপেক্ষতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রাখার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। পাশাপাশি ভোটারদের অসুবিধা এড়াতে ভোটার ইনফরমেশন স্লিপ সময়মতো বিতরণের নির্দেশ দেন।
ব্রিফিং চলাকালীন কমিশনের পক্ষ থেকে পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর ও সন্দেহ নিরসন পর্বও অনুষ্ঠিত হয়। কমিশনের সিনিয়র আধিকারিকরা পাঁচটি নির্বাচনমুখী রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটার তালিকা প্রস্তুতি এবং নির্বাচন পরিচালনার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিশদে আলোচনা করেন। পাশাপাশি আইটি অ্যাপ্লিকেশন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং গণমাধ্যম সংক্রান্ত বিষয়েও পর্যবেক্ষকদের অবহিত করা হয়।
নির্বাচন কমিশনের ‘চোখ ও কান’ হিসেবে কাজ করা কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের নির্বাচন সংক্রান্ত সমস্ত আইন, বিধি ও নির্দেশিকা সম্পর্কে সম্পূর্ণভাবে অবগত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং মাঠপর্যায় থেকে সরাসরি কমিশনকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও মতামত দেওয়ার কথা বলা হয়, যাতে সেগুলির নিরপেক্ষ ও কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা যায়।
পর্যবেক্ষকদের রাজনৈতিক দল, প্রার্থী এবং সাধারণ ভোটারদের কাছে সর্বদা সহজলভ্য থাকার এবং ভোটারদের অভিযোগ সময়মতো নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও তাঁদের ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করে ভোটারদের সুবিধার্থে কমিশনের সাম্প্রতিক উদ্যোগগুলি, বিশেষ করে নিশ্চিত ন্যূনতম সুবিধা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা তদারক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদ এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১-এর ২০বি ধারায় প্রদত্ত পূর্ণ ক্ষমতাবলে নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক নিয়োগ করে থাকে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনায় কমিশনকে সহায়তা করা এবং মাঠপর্যায়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার কার্যকর ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাই তাঁদের মূল দায়িত্ব।

