কেন্দ্রীয় তহবিল বণ্টনে অসমের ভাগ বৃদ্ধি, মোদীকে কৃতজ্ঞতা জানালেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা

দিসপুর, ৪ ফেব্রুয়ারী : কেন্দ্রীয় বাজেটে কেন্দ্রীয় কর বণ্টনে অসমের অংশ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্র সরকারকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত অসমের উন্নয়নযাত্রার প্রতি নয়াদিল্লির অব্যাহত আস্থারই প্রতিফলন।

এক্স–এ করা পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘বিকশিত ভারত’–এর লক্ষ্যে এগিয়ে চলা অসমের ইতিবাচক অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে স্বীকৃতি দিয়েই কেন্দ্র সরকার রাজ্যের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে।

তিনি উল্লেখ করেন, চলতি বছরে কেন্দ্রীয় তহবিল বণ্টনের অংশ হিসেবে অসমকে ৪৯,৭২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। তাঁর কথায়, এই অর্থ রাজ্যের উচ্চাকাঙ্ক্ষী উন্নয়ন পরিকল্পনাকে জোরদারভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে।

রাজ্য সরকারের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এই বাড়তি বরাদ্দ অসমের আর্থিক সক্ষমতা আরও মজবুত করবে। ফলে পরিকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংযোগ ব্যবস্থা এবং সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়ানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে রাজ্যের হাতে আরও নমনীয়তা আসবে।

মুখ্যমন্ত্রী একাধিকবার দাবি করেছেন, গত কয়েক বছরে ধারাবাহিক সংস্কার, উন্নত শাসনব্যবস্থা এবং লক্ষ্যভিত্তিক উন্নয়ন উদ্যোগের ফলেই অসমের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। রাজ্য অর্থ দফতরের আধিকারিকদের মতে, নিজস্ব কর ও অ-কর রাজস্ব আদায়ে স্থিতিশীল বৃদ্ধি এবং কেন্দ্রীয় তহবিলের কার্যকর ব্যবহার এই সাফল্যের অন্যতম কারণ।

হিমন্ত বিশ্ব শর্মা আরও বলেন, অসম জুড়ে সড়ক, সেতু, রেল, অন্তর্দেশীয় জলপথ ও শহর উন্নয়ন প্রকল্পের গতি বাড়াতে কেন্দ্রের সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। তাঁর মতে, এই বিনিয়োগ অসমকে জাতীয় ও আঞ্চলিক বাজারের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করবে, কর্মসংস্থান বাড়াবে এবং বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ করবে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অন্যতম প্রবৃদ্ধির কেন্দ্র হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করার সময়ে এই বর্ধিত কেন্দ্রীয় বণ্টন অসমের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই লজিস্টিকস, পর্যটন, উৎপাদনশিল্প ও জ্বালানি খাতে জোর দিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রবেশদ্বার হিসেবে অসমকে তুলে ধরছে।

নতুন বরাদ্দের ফলে ‘বিকশিত ভারত’–এর অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুষম আঞ্চলিক উন্নয়নের বৃহত্তর লক্ষ্যকে সামনে রেখে রাজ্য সরকার আরও জোরদারভাবে উন্নয়ন কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

Leave a Reply