নয়াদিল্লি, ৩ ফেব্রুয়ারী : নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলির ভূমিকা নিয়ে কড়া অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার হোয়াটসঅ্যাপ ও তাদের মূল সংস্থা মেটাকে তলব করে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিল, প্রযুক্তি বা ব্যবসার অজুহাতে দেশের নাগরিকদের গোপনীয়তার অধিকারের সঙ্গে ছেলেখেলা চলতে পারে না।
শুনানির সময় বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, “ডেটা শেয়ারিংয়ের নামে নাগরিকদের গোপনীয়তার অধিকারের সঙ্গে খেলতে পারেন না।” ব্যবহারকারীর সম্মতি ও ‘অপ্ট-আউট’ ব্যবস্থা নিয়ে মেটার যুক্তিকেও প্রশ্নের মুখে ফেলে আদালত। বিচারপতিরা মন্তব্য করেন, “অপ্ট-আউটের প্রশ্নই বা কোথায়? এটা ব্যক্তিগত তথ্য চুরির এক ভদ্র উপায়।”
মামলার পরিধি বাড়িয়ে আদালত ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক-কেও পক্ষভুক্ত করেছে। আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী নির্দেশ জারি করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এই বিতর্কের সূত্র ২০২১ সালে হোয়াটসঅ্যাপের গোপনীয়তা নীতির আপডেট। অভিযোগ, সেই আপডেটের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের কার্যত বাধ্য করা হয় মেটা গোষ্ঠীর অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে ডেটা ভাগ করে নিতে—নচেৎ হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করা যাবে না।
প্রতিযোগিতা কমিশন অব ইন্ডিয়া এই নীতিকে “বিস্তৃত ও অস্পষ্ট” বলে চিহ্নিত করে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তদন্ত শুরু করেছিল। তাদের সিদ্ধান্ত ছিল, এই নীতির ফলে ব্যবহারকারীদের প্রকৃত পছন্দের অধিকার খর্ব হয়েছে এবং বাজারে প্রভাবশালী অবস্থান অপব্যবহার করেছে হোয়াটসঅ্যাপ।
এর জেরে সিসিআই হোয়াটসঅ্যাপ ও মেটার উপর ২১৩.১৪ কোটি জরিমানা ধার্য করে। সেই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টে আসে সংস্থাগুলি।
গত বছরের নভেম্বরে ন্যাশনাল কোম্পানি ল’ অ্যাপেলেট ট্রাইবুনাল সিসিআই-এর জরিমানার সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। বিচারপতি অশোক ভূষণের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানায়, ২০২১ সালের নীতির “টেক-ইট-অর-লিভ-ইট” চরিত্র ব্যবহারকারীদের উপর অন্যায্য ও শোষণমূলক শর্ত চাপিয়েছে।
তবে পাঁচ বছরের জন্য বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্যে মেটা গোষ্ঠীর সঙ্গে ব্যবহারকারীর ডেটা শেয়ার করা নিষিদ্ধ করার যে নির্দেশ সিসিআই দিয়েছিল, তা খারিজ করে ট্রাইবুনাল।
শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট আরও বলে, বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলির গোপনীয়তার শর্তাবলি এমনভাবে তৈরি করা হয় যে সাধারণ নাগরিক তা সহজে বুঝতে পারেন না। ফলে ব্যবহারকারীর সম্মতির ভিত্তিই প্রশ্নের মুখে পড়ে।
আদালতের সাফ বার্তা—ডেটা শেয়ারিং বা ব্যবহারকারীর তথাকথিত সম্মতির আড়ালে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের যে পদ্ধতি, তা সাংবিধানিক গোপনীয়তার অধিকারের পরিপন্থী হতে পারে। এখন নজর ৯ ফেব্রুয়ারির অন্তর্বর্তী নির্দেশের দিকে, যা এই মামলার ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

