সুপ্রিম কোর্টে পিছোল আই-প্যাক মামলার শুনানি, পরবর্তী তারিখ ১০ ফেব্রুয়ারি

নয়াদিল্লি, ৩ ফেব্রুয়ারি : আই-প্যাক সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টে নির্ধারিত শুনানি পিছিয়ে গেল। বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র ও বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির বেঞ্চে এদিন শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও ইডির আবেদনে তা স্থগিত রাখা হয়। আদালত জানিয়েছে, আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
সূত্রের খবর, ইডির পক্ষের আইনজীবী হলফনামা জমা দেওয়ার জন্য আরও সময় প্রার্থনা করেন। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতা আদালতে জানান, রাজ্য সরকারের দাখিল করা হলফনামা খতিয়ে দেখতে সময় প্রয়োজন। সেই আবেদনে সম্মতি জানায় শীর্ষ আদালত।
উল্লেখ্য, সোমবার সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা জমা দেয় রাজ্য সরকার। সেখানে ইডির দায়ের করা মামলা খারিজের আবেদন জানানো হয়েছে। রাজ্যের দাবি, এই মামলা সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করার আইনগত অধিকার ইডির নেই। পাশাপাশি তল্লাশির পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। রাজ্যের বক্তব্য, ইডির তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও বাধা দেননি। অনুমতি নিয়েই তিনি দল-সংক্রান্ত নথি সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন।
প্রসঙ্গত, গত ৮ জানুয়ারি তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাকের দপ্তর এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালায় ইডি। খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, যে নথিগুলি তিনি নিয়ে এসেছেন, সেগুলি তাঁর দলের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র—যার মধ্যে নির্বাচনী কৌশল সংক্রান্ত তথ্যও রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ওই নথি ছিনিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র হচ্ছিল।
ইডির দাবি, পুরনো কয়লা পাচার মামলার তদন্তে ওই তল্লাশি চালানো হয়েছিল এবং সেই সময় তদন্ত প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা-সহ একাধিক শীর্ষ পুলিশ আধিকারিক তদন্তে বাধা দেন।
এই ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টে দুটি পৃথক মামলা দায়ের হয়েছে—একটি ইডির পক্ষ থেকে এবং অন্যটি ইডির তিন অফিসারের তরফে। এখন নজর আগামী ১০ ফেব্রুয়ারির শুনানির দিকে।

Leave a Reply