প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে গত প্রায় ১১ বছরে ভারত প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজের ভীতকে আরও শক্তিশালী করেছে: সাংসদ বিপ্লব

আগরতলা, ২৮ জানুয়ারি: গত বছরটি ভারতের সার্বিক উন্নয়নের অগ্রগতি, বিপরীত পরিস্থিতিতে দৃঢ়তার সাথে বীরত্বপূর্ণ জবাব এবং অর্জিত সফল্য প্রাপ্তির নিরিখে কতটা পরিপূর্ণ ছিল, আজ ২০২৬-২৭ বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনে মহামান্য রাষ্ট্রপতির ভাষনে তা উজ্জ্বল হয়ে ওঠেছে। আজ বাজেট অধিবেশন সর্ম্পকে  রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ধন্যবাদ জানিয়ে এমনটাই বলেন সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব।

তিনি আরো বলেন, গত প্রায় ১১ বছরে ভারত প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজের ভীতকে আরও শক্তিশালী করেছে। এই সময়কাল, আগামী ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ নির্মাণের লক্ষ্যে একটি দৃঢ় সংকল্প ও প্রস্তাবিত রূপরেখাকে সামনে রেখে  প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সুযোগ্য নেতৃত্বে দেশ দ্রুত এগিয়ে চলেছে।

একটা সময়ে সমুদ্র বাণিজ্যে ভারতের বিশেষ ভূমিকা ছিল। কিন্তু উপনিবেশবাদ-পরবর্তী সময়ে দীর্ঘদিন অবহেলার কারণে আজ ভারতের মোট বাণিজ্যের প্রায় ৯৫ শতাংশ বিদেশি জাহাজ খাতে যাচ্ছে। যাতে প্রতি বছর প্রায় ৬ লক্ষ কোটি টাকা ব্যয় হয়। শিপিং খাতের জন্য প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকার একটি ঐতিহাসিক প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। বড় জাহাজগুলিকে অবকাঠামোগত স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান প্রয়োজন অনুযায়ী পুরনো সামুদ্রিক আইনগুলিও সংশোধন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভারতের প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী, যিনি এই  দুরদর্শী পদক্ষেপ নিয়েছেন। এর ফলে এত বড় অর্থরাশি ভারতের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন সাংসদ।

সাংসদ আরও বলেন, সুস্বাস্থ্যকে প্রাধান্য দিয়ে আগরতলায় নারী ও শিশুদের জন্য একটি হাসপাতাল স্থাপন স্বাস্থ্যসেবার পরিকাঠামোকে অনেক বেশি উন্নত করবে এবং এই ধরনের উদ্যোগ উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি শক্তিশালী স্বাস্থ্য অবকাঠামো গড়ে তুলতে সহায়তা করছে। সম্প্রতি ‘স্টার্টআপ ইন্ডিয়া’ কর্মসূচি ১০ বছর পূর্ণ করেছে। এই ১০ বছরে ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে পরিণত হয়েছে। যা যুবদের অর্থনৈতিক উন্নতি বা আত্মনির্ভরতার পথ দেখাচ্ছে। এক দশক আগে দেশে ৫০০ টিরও কম স্টার্টআপ ছিল। আজ প্রায় ২ লক্ষ স্টার্টআপ তালিকাভুক্ত রয়েছে। যার মধ্যে গত এক বছরেই প্রায় ৫০ হাজার নতুন স্টার্টআপ চালু হয়েছে। ভারতের স্টার্টআপ নেটওয়ার্কে ২০ লক্ষেরও বেশি যুবক কাজ করছেন। এর মধ্যে ৪৫ শতাংশ স্টার্টআপে অন্তত একজন নারী পরিচালক রয়েছেন।

গত কয়েক বছরে কেন্দ্রীয় সরকার আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়নে ৫০ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ করেছে। ক্যাপিটাল এক্সপেনডিচর এর ফলে বাজারে টাকা রোটেশন হয়। যা অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে।

সাংসদ এর প্রশংসায় বলেন, এই অবকাঠামোগত বিনিয়োগ যুবসমাজের জন্য বিপুল সংখ্যক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। পাশাপাশি দেশের আইটিআই নেটওয়ার্ককে আধুনিক ও ভবিষ্যৎ-উপযোগী করে তুলতে এক হাজার আইটিআইকে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে উন্নত করা হচ্ছে। এ উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী সেতু প্রকল্পের আওতায় ৬০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকার আধুনিক প্রযুক্তির জন্য শিল্প-প্রস্তুত কর্মশক্তি গড়ে তুলছে। এখন পর্যন্ত সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য ৬০ হাজার যুবককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ক্ষেত্রে ১০ লক্ষ যুবককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। যা আগামীদিনে উপার্জনের এক বিশেষ মাধ্যম হয়ে উঠেছে। এতে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ, একাধিক সরকারি সুযোগ বড় কর্মসংস্থানের সুযোগকে সুনিশ্চিত করছে। মোদী জির নেতৃত্বে সমগ্র দেশে চলমান বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্পের ফলস্বরূপ ২৫ কোটি নাগরিক দারিদ্র্যসীমাকে অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে। গত এক দশকে অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বলদের জন্য ৪ কোটি পাকা ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। শুধুমাত্র গত এক বছরেই ৩২ লক্ষ নতুন ঘর প্রদান করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, জল জীবন মিশনের মাত্র পাঁচ বছরে পাইপের মাধ্যমে জল পৌঁছে গেছে ১২.৫ কোটি নতুন পরিবারে। উজ্জ্বলা যোজনার মাধ্যমে ১০ কোটিরও বেশি পরিবার এলপিজি গ্যাস সংযোগ পেয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৯৫ কোটি ভারতবাসী সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।

আলোচনায় সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব আর বলেন, ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার -এর মাধ্যমে মাত্র এক বছরে ৬ লক্ষ ৭৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি সুবিধা সরাসরি উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছেছে। এখন প্রতিটি টাকা প্রকৃত ভোক্তার কাছেই সরাসরি পৌঁছে যাচ্ছে। ভারত এক মাত্র দেশ, যেখানে ৪১ শতাংশ ডিজিটাল ট্রানজেকশন করা হয়।

আয়ুষ্মান ভারতের মাধ্যমে সারা দেশে ১১ কোটিরও বেশি বিনামূল্যে হাসপাতাল চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। যার মধ্যে শুধুমাত্র গত এক বছরেই ২.৫ কোটি গরীব মানুষ চিকিৎসা সুবিধা পেয়েছেন। প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রায় ১ কোটি ‘ভায় বন্দনা কার্ড’ ইস্যু করা হয়েছে এবং হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় ৮ লক্ষ প্রবীণ রোগী বিনামূল্যে চিকিৎসা পেয়েছেন। সংকটকালে প্রধানমন্ত্রী জীবন জ্যোতি বীমা যোজনা এবং প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষা বীমা যোজনা গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সুরক্ষা প্রদান করেছে। এই প্রকল্পগুলির আওতায় ২৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি বিমা দাবির অর্থ প্রদান করা হয়েছে। ১.৮ লক্ষ আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দিরের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা মানুষের বাড়ির আরও কাছে পৌঁছেগেছে এবং রোগ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হয়েছে।

পরবর্তী প্রজন্মের জিএসটি সংস্কার মানুষের আত্মবিশ্বাসকে আরও শক্তিশালী করেছে। এর ফলে নাগরিকদের প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকার সাশ্রয় হয়েছে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। মোদী সরকার মনে করে, সমৃদ্ধ কৃষকই ‘বিকশিত ভারত’-এর প্রথম অগ্রাধিকার।  ১৫০ মিলিয়ন টন চাল উৎপাদনের মাধ্যমে ভারত বিশ্বের বৃহত্তম চাল উৎপাদনকারী দেশে পরিণত হয়েছে। ভারত বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মাছ উৎপাদনকারী দেশ। মাছ উৎপাদন প্রায় ২০০ লক্ষ টনে পৌঁছেগেছে, যা ২০১৪ সালের তুলনায় ১০৫ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে।

জানাজাতি ছাত্র ছাত্রীদের শিক্ষার সুযোগ গ্রহণের সুবিধার্থে ৪০০টিরও বেশি একলব্য মডেল আবাসিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। ত্রিপুরায় ১২ টি চালু আছে। ৩ টি সম্প্রতি চালু হওয়ার পথে এবং আরও ৯ টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

গত ১১ বছরে তফসিলি জনজাতি শিক্ষার্থীদের জন্য ৪২,০০০ কোটিরও বেশি পোস্ট-ম্যাট্রিক বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। এই উদ্যোগে প্রায় ৫ কোটি শিক্ষার্থী উপকৃত হয়েছেন। গত এক বছরে ভারত প্রায় ১৮,০০০ কিলোমিটার নতুন গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ করেছে। ভারতের মেট্রো নেটওয়ার্ক ২০২৫ সালে ১,০০০ কিলোমিটার অতিক্রম করেছে, ফলে ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মেট্রো নেটওয়ার্কের অধিকারী হয়েছে।

সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব আর বলেন, ভারতের প্রবৃদ্ধির ইঞ্জিন হিসেবে উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে ক্ষমতায়ন হয়েছে মোদীজির নেতৃত্বে।  গত কয়েক বছরে উত্তর-পূর্বাঞ্চল অভূতপূর্ব গুরুত্ব পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ সড়ক যোজনার আওতায় উত্তর-পূর্বে ৫০,০০০টি গ্রামীণ সড়ক নির্মিত হয়েছে, যা বাজার ও বিদ্যালয়ের যোগাযোগকে সহজ করেছে। সরকার উত্তর-পূর্বে রেলপথ উন্নয়নে ৮০,০০০ কোটি বিনিয়োগ করেছে। সেদিন দিন খুব দূরে নয়, যখন অসম সেমিকন্ডাক্টর চিপ শিল্পের প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠবে।সরকার এই অঞ্চলের উন্নয়ন ও সংযোগ বৃদ্ধিতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। প্রকৃত উন্নয়নের প্রশ্নে দীর্ঘ উপেক্ষিত উত্তর পূর্বাঞ্চলকে দেশের মূল উন্নয়ন ধারার সাথে যুক্ত করার পাশাপাশি সর্বত্র চলমান বিকাশ ধারার জন্য ভারত এক উজ্জ্বল ও সমৃদ্ধশালী আগামীর দিশা খুঁজে পেয়েছে।
————

Leave a Reply