News Flash

  • Home
  • ত্রিপুরা
  • জল জীবন মিশনের সফল বাস্তবায়নে জাতীয় গড়কে ছাড়িয়ে গেল ত্রিপুরা: সাফল্য
Image

জল জীবন মিশনের সফল বাস্তবায়নে জাতীয় গড়কে ছাড়িয়ে গেল ত্রিপুরা: সাফল্য

আগরতলা, ২৭ জানুয়ারি: ত্রিপুরা সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে জল জীবন মিশনের বাস্তবায়ন সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি সংলাপে অংশগ্রহণ করে রাজ্যের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরলেন মন্ত্রী কিশোর বর্মন।

বক্তব্যে তিনি জানান,  বর্তমানে ত্রিপুরা রাজ্যে মোট ৭,৫০,৮৪৯টি গ্রামীণ পরিবারের মধ্যে ৬,৪৭,৯৫৪টি পরিবারে কার্যকর নল জল সংযোগ  প্রদান করা হয়েছে। এর ফলে রাজ্যের গড় কভারেজ দাঁড়িয়েছে ৮৬.৩০ শতাংশ, যা জাতীয় গড় ৮১.৫৬ শতাংশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

উল্লেখ করা হয় যে জল জীবন মিশনের আগে ত্রিপুরায় মাত্র ৩.২৬ শতাংশ পরিবারে নল জল সংযোগ ছিল। আজ সেই পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটেছে, যা এই মিশনের কার্যকর বাস্তবায়নেরই প্রতিফলন।
বক্তব্যে আরও জানানো হয়, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার লেফুঙ্গা ও মোহনপুর ব্লক ইতিমধ্যেই ১০০ শতাংশ এফএইচটিসি  কভারেজ অর্জন করে “হর ঘর নল সে জল” ব্লক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। রাজ্যজুড়ে এখন পর্যন্ত ১৭৫টি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং ৪,৭০৩টি বসতি সম্পূর্ণভাবে নল জল সংযোগের আওতায় এসেছে।

শিক্ষা ও শিশু কল্যাণের দিকটি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে জানানো হয় যে ৪,২৫১টি স্কুল (৯৪.৫৫ শতাংশ) এবং ৮,৪৮১টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র (৯২.১৭ শতাংশ)-এ পাইপলাইনের মাধ্যমে নিরাপদ পানীয় জল সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।

আর্থিক দিক থেকে রাজ্যের দৃঢ় অবস্থানের কথা উল্লেখ করে জানানো হয়, জল জীবন মিশনের অধীনে ত্রিপুরার মোট অনুমানিক বাজেট ৬,৪৭৪.২২ কোটি টাকা। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩,৩৪৯.৬০ কোটি টাকা তহবিল প্রাপ্ত হয়েছে এবং ৩,৩৪৮.৩০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে, যা আর্থিক শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতার পরিচয় বহন করে।

বক্তব্যে জল জীবন মিশনের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ—পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ -এর উপর আলোকপাত করা হয়। ২০২৩ সালেই রাজ্য সরকার পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণের নীতি গ্রহণ করেছে এবং কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী একটি উন্নত খসড়া নীতিও প্রস্তুত করা হয়েছে। পাশাপাশি O&M খাতে বিদ্যমান আর্থিক ঘাটতি ও কেন্দ্রের নিকট মুলতুবি থাকা ৭৫০ কোটি টাকার প্রতিশ্রুত দায়বদ্ধতার বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে তুলে ধরা হয়।

এই প্রেক্ষাপটে ত্রিপুরা রাজ্য গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিকে ‘মাইক্রো ওয়াটার ইউটিলিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমানে পঞ্চায়েতগুলি জল সরবরাহ পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ, ব্যবহারকারী ফি সংগ্রহ, জনসচেতনতা সৃষ্টি ও অভিযোগ নিষ্পত্তিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

বিশেষ করে পাহাড়ি, দুর্গম ও আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় কমিউনিটি-পরিচালিত ও শক্তি-দক্ষ জল সরবরাহ মডেল সফলভাবে বাস্তবায়নের ফলে নিরাপদ পানীয় জল নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি পরিচালন ব্যয় হ্রাস পেয়েছে এবং জনগণের মধ্যে মালিকানাবোধ বৃদ্ধি পেয়েছে।

পরিশেষে বক্তৃতায় বলা হয়, পঞ্চায়েত ব্যবস্থা শক্তিশালী হলে এবং প্রশাসন সহযোগী ভূমিকা পালন করলে টেকসই ও মানসম্মত জনপরিষেবা নিশ্চিত করা সম্ভব। রাজ্য সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ—যাতে জল জীবন মিশনের সুফল পরিসংখ্যানের গণ্ডি পেরিয়ে প্রতিটি পরিবারের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন হিসেবে প্রতিফলিত হয়।

——–

Releated Posts

টিসিপিসিআর-এর উদ্যোগে প্রথম শিশু অধিকার ও সুরক্ষা কনক্লেভ অনুষ্ঠিত

আগরতলা, ১৬ সেপ্টেম্বর: ত্রিপুরা শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন (টিসিপিসিআর)-এর উদ্যোগে আজ মেলারমাঠে কমিশনের কার্যালয়ে প্রথম শিশু অধিকার ও…

ByByReshmi Debnath Sep 16, 2026

মোদির জন্মদিনের কর্মসূচিতে সরকারি সম্পদ ব্যবহারে আপত্তি জিতেন্দ্রর

আগরতলা, ১৬ সেপ্টেম্বর: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন এবং তাঁর ২৫ বছরের জনজীবন উপলক্ষে ত্রিপুরায় আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে…

ByByTaniya Chakraborty Sep 16, 2026

পানিসাগরে ৪০ কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার, ট্রাক চালক আটক

নিজস্ব প্রতিনিধি, ধর্মনগর, ১৬ সেপ্টেম্বর: উত্তর ত্রিপুরার পানিসাগরে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পানিসাগর থানার…

ByByReshmi Debnath Sep 16, 2026

অনঙ্গমোহিনী গার্লস হোস্টেলের ছাদ থেকে ছাত্রী পড়ে আহত, জিবিতে জেবিকাকে দেখতে এনএসইউআই প্রতিনিধি দল

আগরতলা, ১৬ সেপ্টেম্বর: সুপারি বাগানস্থিত অনঙ্গমোহিনী গার্লস হোস্টেলের তিনতলা ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী জেবিকা…

ByByReshmi Debnath Sep 16, 2026
Scroll to Top