আগরতলা, ২৫ জানুয়ারি: রাজ্যে খুন সন্ত্রাসের প্রশ্নে আরো একবার কমিউনিস্টদের নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। আর ভারতীয় জনতা পার্টিকে আটকানোর মতো ক্ষমতা কারোর নেই। ভারতীয় জনতা পার্টি প্রত্যেক মানুষের কাছে যাবে এবং জনজাতিদের কল্যাণে ঘরে ঘরে যাবে। আজ সিপাহীজলা জেলার দক্ষিণ তৈবান্দালে আয়োজিত ভারতীয় জনতা পার্টির এক বিশাল জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।
সভায় বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, আজ এখানে বিশাল সংখ্যায় মানুষের উপস্থিতি দেখে এটাই মনে হচ্ছে ২০২৬ এ এডিসিতে যে নির্বাচন হতে যাচ্ছে সেই নির্বাচনকে ঘিরে খুমুলুঙে কম্পন শুরু হয়ে গেছে। রাত পোহালেই আগামীকাল প্রজাতন্ত্র দিবস। আর এখন কিন্তু রাজতন্ত্র নেই। এখন রয়েছে গণতন্ত্র ও প্রজাতন্ত্র। আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাজ পরিবার থেকে আসেন নি। তিনি একজন চা ওয়ালা। আজ এই গণতন্ত্রের কারণে যে সংবিধান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সেই সংবিধান প্রতিষ্ঠার দিন ২৬ জানুয়ারি। সেজন্য আজ একজন চা ওয়ালা দেশের প্রধানমন্ত্রী। আমরা দেখেছি বিভিন্ন রাজ্যে পরিবার তান্ত্রিক পার্টিগুলির অবস্থা কি হয়েছে? ব্যক্তি তান্ত্রিক রাজনীতি এখন আর চলবে না। মানুষ বুঝে গিয়েছে। গনতন্ত্রে মানুষই শেষ কথা। ভালো কাজ না করলে এক আঙুলে টিপে তাকে বের করে দেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আজ একটা উল্লেখযোগ্য দিন। জাতীয় ভোটার দিবস। যারা ১৮ বছর পূর্ণ করেছে তাদের স্বাগত জানাই। তাদের হাতে শুধু ত্রিপুরা নয়, সারা ভারতবর্ষ। তাই বুঝতে হবে আগামীতে এই রাজ্য বা দেশ কারা চালাবেন। এতদিন ধরে তিপ্রাসা তিপ্রাসা বলে বহু লোক্যাল পার্টি এসেছে। কিন্তু আমরা দেখেছি এতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বরং যার যার ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য এসব পার্টি তৈরি হয়েছে এবং শেষও হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারতীয় জনতা পার্টির যে সরকার চলছে সেই সরকার জনজাতিদের সার্বিক কল্যাণে কাজ করছে। তিনি জনজাতিদের উন্নয়নের জন্য অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছেন। আমরাও একইভাবে জনজাতিদের উন্নয়নে অগ্রাধিকার দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী বলছেন উত্তর পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন না হলে ভারতবর্ষ উন্নত হবে না। আজ উত্তর পূর্বাঞ্চলে হিরা মডেল দিয়েছেন তিনি। অথচ আগে উত্তর পূর্বাঞ্চল উগ্রবাদী সমস্যায় জেরবার ছিল।
সভায় আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, যাদের সময়ে উগ্রপন্থী সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষ করে ত্রিপুরায় জনজাতিদের একাংশকে ভুল বুঝিয়ে উগ্রপন্থার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, আমাদের সরকার আসার পর তাদের মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। আমরা অর্থ দিচ্ছি, আমরা তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করছি। আর মাঝখানে এসে অন্য ব্যক্তি সেই সুযোগ নেবে, এসব কিন্তু মানুষ খুব ভালো করে বুঝে গেছে। যদি জনজাতিদের উন্নয়ন করতে হয়, যদি ত্রিপুরা সহ উত্তর পূর্বাঞ্চলকে শান্তিতে রাখতে হয় তবে একমাত্র ভারতীয় জনতা পার্টি ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সেটা পারেন। উত্তর পূর্বাঞ্চলে এখন পর্যন্ত প্রায় ১১/১২টা চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। তাই গোটা অঞ্চলে এখন শান্তির বাতাবরণ বইছে। কারণ শান্তি না থাকলে উন্নয়ন কোথা থেকে হবে।
সভায় বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা দেখেছি তাদের সময়ে সাংবাদিক খুন হয়েছেন। আগরতলার মূল শহরের মধ্যে সুখরাম দেববর্মা নামে এক জনজাতি অফিসারকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। যারা খুনি তারা অনায়াসে হেঁটে চলে গিয়েছিল। এরকম একটা খুন সন্ত্রাসের অবস্থা ছিল তখন। নির্বাচনের আগে একবার সন্ত্রাস, আর নির্বাচনের পরে আরেকবার সন্ত্রাস। এরকমই অবস্থা ছিল সেসময়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির প্রদেশ সাধারণ সম্পাদক বিপিন দেববর্মা, বিধায়ক জিতেন্দ্র মজুমদার, বিধায়ক বিন্দু দেবনাথ, প্রাক্তন সাংসদ রেবতী ত্রিপুরা, প্রদেশ বিজেপির সম্পাদক ডেভিড দেববর্মা, সিপাহীজলা জেলার জেলা সভাধিপতি সুপ্রিয়া দাস দত্ত, এডিসি সদস্য পদ্মলোচন ত্রিপুরা, মন্ডল সভাপতি বিপুল মজুমদার সহ অন্যান্য নেতৃত্ব।

