আগরতলা, ২৩ জানুয়ারি: মেলাঘর কালিবাড়ি প্রাঙ্গনে পাঁচ দিনব্যাপী নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী নেতাজী মেলার শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয় আজ। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন মুখ্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের উচ্চ শিক্ষা, পঞ্চায়েত, সাধারণ প্রশাসন (রাজনৈতিক) দপ্তরের মন্ত্রী কিশোর বর্মন ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মেলাঘর পৌর পরিষদের চেয়ারপারসন অনামিকা ঘোষ পাল রায়, রুদ্রসাগর উদ্বাস্ত ফিসারম্যান সমবায় সমিতির সভাপতি পবিত্র কুমার দাস মহাশয় সহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ।
উদ্বোধনী ভাষণে বক্তা কিশোর বর্মন বলেন, “ইতিহাসের বই বলবে নেহরু ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী, কিন্তু ইতিহাসের বিবেক বলবে—নেতাজী ছিলেন প্রথম প্রধানমন্ত্রী যিনি রাষ্ট্র গঠন করেছিলেন। নেতাজী ক্ষমতা পাননি, ক্ষমতা আদায় করতে চেয়েছিলেন। নেহরু রাষ্ট্র পেয়েছিলেন, নেতাজী রাষ্ট্র গড়তে চেয়েছিলেন।”
কংগ্রেস ও বামপন্থীদের ভূমিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নেতাজীর আদর্শকে ভয় পেয়েছিল কংগ্রেস ও সিপিএম। তাই তাঁকে ইতিহাসের পাতায় কোণঠাসা করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন যে স্বাধীনতার পর দীর্ঘদিন ধরে নেতাজীর অবদানকে পরিকল্পিতভাবে আড়াল করা হয়েছে। “আজাদ হিন্দ ফৌজের ইতিহাস পাঠ্যবই থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, নেতাজীর নাম উচ্চারণ করাও অনেকের কাছে অস্বস্তিকর ছিল।”
বর্তমান সরকারের ভূমিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আজ নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে নেতাজী শুধু স্মৃতিতে নয়, রাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রে ফিরে এসেছেন।”
তিনি বলেন, ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ, শক্ত জাতীয় নিরাপত্তা নীতি এবং আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা—সবই নেতাজীর শক্ত রাষ্ট্রদর্শনের বাস্তব রূপ। বক্তা আরও বলেন, নেতাজীর অসমাপ্ত স্বপ্ন আজ ধীরে ধীরে বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। ভারত আজ ক্ষমতার নয়, সার্বভৌমত্বের ভাষায় কথা বলছে। অনুষ্ঠানে বক্তা নেতাজীর আদর্শকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নেতাজী শুধু ইতিহাসের নায়ক নন, তিনি ভারতের ভবিষ্যতের দিশারি।
পাঁচ দিনব্যাপী এই নেতাজী মেলাকে কেন্দ্র করে মেলাঘর এলাকায় উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচির মাধ্যমে নেতাজীর আদর্শকে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

